নির্ধারিত সময়ে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

৪ দিন আগে
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় নির্বাচন স্থগিতের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সোমবার (১২ জানুয়ারি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। বিক্ষোভ চলাকালে বিজয় ২৪ হলের ভিপি প্রার্থী খলিলুর রহমান চাঁদ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান এবং তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়া হয়।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে এবং বিভ্রান্তি এড়াতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব ধরনের সাংগঠনিক নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, এই সময়ের মধ্যে কোনো পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতি, সাংবাদিক সমিতি বা ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না।

 

আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসির নির্দেশনার পর শাবিপ্রবির এই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে যায়। এর প্রতিবাদে আইসিটি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘জনতা জনতা’ স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করেন। ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেন।

 

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগে তাদের আশ্বস্ত করেছিল যে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব শাকসু নির্বাচনে পড়বে না। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচন স্থগিত করাকে তারা ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ ও ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

 

আরও পড়ুন: ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পেলে তারা আগামীকাল ভর্তি পরীক্ষা হতে দেবেন না।

 

বিক্ষোভে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগামীকাল ভর্তি পরীক্ষা, আর ঠিক তার আগের দিন এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে যাতে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের মুখোমুখি দাঁড় করানো যায়। এটি একটি ডিজাইন বা ষড়যন্ত্র। আমরা কোনো ষড়যন্ত্র মানব না। ২০ তারিখে শাকসু নির্বাচন দিতে হবে, তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’

 

আরেক শিক্ষার্থী প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “প্রশাসন আমাদের বলেছিল, ‘যদি মারাও যাই, তবুও শাকসু হবে’। কিন্তু এখন তারা নাটক করছে। জুলাইয়ের রক্ত এখনও আমাদের শরীরে আছে, অধিকার আদায়ে আমরা আপস করব না।”

 

দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাবিপ্রবিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও প্রচারণায় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রার্থীরা বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ। কিন্তু হঠাৎ নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় সেই উৎসব এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন