মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতে গরু আনতে গিয়ে সীমান্তে এক চোরাকারবারি নিহতের ঘটনায় এলাকার বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং আ.লীগ নেতাসহ নিরপরাধ মানুষের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক গুমের মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করা হয়।
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরেই বলেছেন, আগামীর নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হবে। মানুষকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে গুম করা যাবে না, বিচারবহির্ভূত হত্যা করা যাবে না। নাশকতার মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করা যাবে না। এই বাংলাদেশ আর অতীতের মতো দেখতে চাই না। অপরাধ যেই করুক, যেই দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। সে বিএনপি হোক বা অন্য দলের হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকায় কয়েকদিন আগে ভারত থেকে গরু আনতে গিয়ে একজন মারা গেছে। তার সাথে কারা ছিল, কে কে ছিল সেটি পুলিশ তদন্ত করেছে। কিন্তু এই ঘটনায় একটি গুমের মামলা করা হয়েছে। সেখানে আসামি করা হয়েছে সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের। ঘটনা জানার পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে মামলা নেয়ার জন্য বললেও তা করেননি।’
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগের অর্ধশত নেতাকর্মী
পুলিশের সমালোচনা করে সাবেক এই এমপি বলেন, ‘পুলিশ এখনও তাদের চরিত্র পরিবর্তন করতে পারেনি। তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে পুলিশ এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। সামনে ১২ তারিখ যদি নির্বাচন না হতো, আজকে যে ওসি একাজ করেছে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করাতাম। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, এই বাংলাদেশ আমরা দেখব না।’
তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য ছিলাম, সেসময় একাই সংসদে হাসিনার সামনে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলাম। বেনজীর ছিল একজন হত্যাকারী, র্যাবের ডিজি ও পুলিশের আইজি। তাকে দেখে গোটা বাংলাদেশ কাঁপত। বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও আলেম ওলামাদের হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছে বেনজীর। তার বিরুদ্ধে আমি সংসদে কথা বলেছি।’
এ সময় তিনি চরবাগডাঙ্গা এলাকার গরু চোরাচালানকারী গোলকাজুল ওরফে কাজল নিহতের ঘটনায় গুমের মামলা দায়েরের জন্য সদর থানার ওসি এবং জামায়াতকে দায়ী করেন। অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘এই মামলায় নিরপরাধ রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতিহিংসার কারণে আসামি করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত অপরাধীরা বেরিয়ে আসবে।’ তদন্তের স্বার্থে বাদী ও সাক্ষীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক নেতা শাহনেওয়াজ খান সিনা, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম, টুটুল ইসলাম ও এনামুল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল রেজা, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মেজর ডালিম, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
]]>
৩ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·