নিখোঁজের দুদিন পর ব্রহ্মপুত্রের তীরে ভেসে উঠলো কলেজছাত্রের মরদেহ

৩ সপ্তাহ আগে
ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর আনন্দমোহন কলেজের ছাত্র শাওনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে জয়নুল আবেদিন পার্ক এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ভেসে আসে মরদেহটি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।


নিহত নুরুল্লাহ শাওন ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।


নিহতের সহপাঠীরা জানায়, গত বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন পার্ক এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যায়। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে দুই বন্ধুকে অন্তত ৭ জনের একটি কিশোরদল ঘিরে ধরে তাদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে এ সময় দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নুরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে বেদম মারতে শুরু করে। ওই সময় দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং ৩ জন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহ শাওনের কোনো সন্ধান মিলছিল না।


পরে শুক্রবার রাতে নৌকার মাঝিরা নদের চড়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।


এদিকে মরদেহ উদ্ধারের খবরে নিহতের সহপাঠী ও কলেজের বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা ঘটনায় জড়িতের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে বিক্ষোভও করেন।


আরও পড়ুন: ‘নামাজের জন্য ডাকায় বন্ধুর বুকে লাথি’, খাল থেকে মরদেহ উদ্ধার


ক্ষোভ জানিয়ে নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার বলেন, ‘আমার দুই বন্ধু ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারী কিশোরদলের কবলে পড়ে। একজন সাঁতরে নদ পার হয়ে চলে আসলেও শাওনকে পাইনি। আমরা একজনকে ধরে সবার নাম-ঠিকানা পুলিশকে দিলেও পুলিশ কিছু করেনি। ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানাই।’


এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ৩-৪ জনকে আসামি করে দেয়া অভিযোগটি পুলিশ সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। অভিযুক্তদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ এর মধ্যে। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী একজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।


ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, ‘মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় এরইমধ্যে একজন গ্রেফতার হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন