আইপিএলের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল টাইগার ক্রিকেটে। চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বৈরী আচরণের কারণেই কি না, বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ায় পাকিস্তান। পিএসএলে নিলাম এবং সরাসরি চুক্তিতে প্রথমবারের মতো দল পান ৬ ক্রিকেটার। বাংলাদেশের ইতিহাসে যা ছিলো অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। অম্ল মধুর সেই পিএসএল শেষ করেই এবার দেশে ফিরলেন ক্রিকেটাররা।
লাহোর কালান্দার্সের হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান সুপার লিগে অংশ নেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৮ সালে সময়টা ভালো না কাটলেও, এবারের আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন কাটার মাস্টার। ১৮ সালে যেখানে ছিলো ৫ ম্যাচে ৪ উইকেট, সেখানে এবার সমান ম্যাচে উইকেট বেড়েছে ২টা। তবে, শুধু উইকেট দিয়ে মোস্তাফিজের মাঠের আগ্রাসন কাউন্ট করলে ভুল করবেন। লাহোরের প্রাণ ভোমরা ছিলেন সাতক্ষীরা সায়নাইড। ম্যাচের পর ম্যাচ কিপটে বোলিং করে ব্যাটারদের নাভিশ্বাস ছুটিয়েছেন তিনি। যদিও ওভারঅল ইকোনমি ৭ দশমিক এক সাত। কিন্তু তার বোলিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কালান্দার্স মালিক সামির রানা।
আরও পড়ুন: ডিপিএলের দলবদলের তারিখ জানাল বিসিবি
একই টিমে ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। দুই ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি এই হার্ডহিটার ব্যাটার। একদিন করেন ১৪, আরেকদিন ১২। পরে, বৃষ্টির কারণে ছোট দৈর্ঘ্যের তৃতীয় ম্যাচে নিজের পছন্দের ব্যাটিং পজিশন ফিরে পান ইমন। ওপেনিংয়ে নেমে মুলতান সুলতান্সের বোলারদের কচুকাটা করেন চট্টগ্রামের ছেলে। ১৯ বলে করেন ৪৩ রান। হাঁকান ৫টা ছক্কা। সেই ম্যাচেই ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পান ইমন। পরে, সুস্থ হতে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানানো হয় ফ্রাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে। তাই ২১শে এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি থাকলেও বাকিদের সঙ্গে ফিরে এসেছেন ইমন। এখন বিসিবিতে চলবে তার পুনর্বাসন। আশা করা হচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগেই সুস্থ হয়ে উঠবেন পারভেজ ইমন।
এদিকে, এবারের পিএসএল'টা ভুলে যেতে চাইবেন রিশাদ হোসেন। বিগ ব্যাশ কাঁপিয়ে এবারের পিএসএলে নতুন দল পেয়েছিলেন টাইগার লেগি। কিন্তু নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। লাহোর কালন্দার্সের হয়ে আগের পিএসএলে ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন রিশাদ। পরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে মাঝ পথে ফিরে আসেন তিনি। পরে গেলেও, আগের সেই ধারাবাহিকতা ছিলো না রিশাদের। এবার অবস্থা আরো করুণ। চার ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন মাত্র ২টা। রান খরচ করেছেন দেদারসে, ১১ দশমিক শূন্য সাত হারে।
আরও পড়ুন: স্পিন চ্যালেঞ্জের মাঝেও বাংলাদেশ সফর হবে রোমাঞ্চকর— বিশ্বাস লাথামের
ভুলে যেতে না চাইলেও এ পিএসএল থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তানজিদ হাসান তামিমকেও। দারুণ ফর্ম নিয়ে পাকিস্তান গিয়েও তাকে বসে থাকতে হয়েছে টিম কম্বিনেশনের কারণে। তবে, একই দলে থাকা দুই টাইগার পেসার নাহিদ রানা এবং শরিফুল ইসলাম আলো ছড়াচ্ছেন আপন দ্যুতিতে। পেশওয়ার জালমির হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে উইকেট পাননি শরিফুল। কিন্তু বোলিং কারিশমায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ক্যারি করেন ওটিজ গিবসন। যার ফল আসে পরের দুটো ম্যাচেই। দারুণ বোলিং করে পরের দুই ম্যাচে দুই উইকেট নেন শরিফুল। সঙ্গে তার ইকোনমিক পারফরম্যান্সও ছিলো চোখে পড়ার মতো।
আর নাহিদ রানা ছিলেন না প্রথম দুই ম্যাচে। তিন নম্বরে নেমেও ৩০ রান খরচায় পাননি কোনো উইকেট। তবে, সব বদলে যায় চতুর্থ ম্যাচে। সুযোগ পেয়েই নিজের মুনশিয়ানা দেখান নাহিদ। তার আগুনে গোলায় ধসে যায় প্রতিপক্ষ। ৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং এবং ডট বলের রেকর্ড গড়েন রানা। পরের ম্যাচে আবারও ২ উইকেট আসে তার ঝুলিতে। সবাই ফিরে আসলেও, এখনো আসেননি এই দুই পেসার। আরো এক ম্যাচের জন্য জালমি তাদের রেখে দেওয়ার অনুরোধ করলে এনওসি বাড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি। আগামী ১৪ এপ্রিল ফেরার কথা রয়েছে তাদের।
]]>
১ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·