ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে যে ব্যক্তি মাত্র একদিন ইতিকাফ করবে; আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব হবে আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। (আল-মুজামুল আওসাত লিত-তবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/৩৫১-৩৫২; শুআবুল ঈমান ৩/৪২৫, হাদিস: ৩৯৬৫)
ইতিকাফ শুধু পুরুষের জন্য নয় বরং নারীদের জন্যও ইতিকাফের বিধান রয়েছে। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র স্ত্রীরা ইতিকাফ করতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রীগণ ইতিকাফ করেছেন। (বুখারি, হাদিস: ২০৩৬; মুসলিম, হাদিস: ১১৭২)
আমাদের দেশে নারীরা খুব কমই ইতিকাফ করেন। অথচ ইতিকাফ অত্যন্ত সওয়াব ও ফজিলতের আমল। আর নারীদের জন্য ইতিকাফ খুব সহজ। কারণ তারা ঘরেই ইতিকাফ করবেন। ফলে নিয়ম মেনে সংসারের খোঁজখবরও নিতে পারবেন। সংসার ঠিক রেখে তাদের ইতিকাফও হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:খতম তারাবি পড়ার নিয়ম
নারীদের ইতিকাফের স্থান
নারীদের নামাজের স্থান তাদের ঘর। তারা ঘরে নামাজ পড়েও পুরুষের মসজিদে নামাজ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াবের অধিকারী হন বলে সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এ অর্থে নারীদের ঘর মসজিদের মতো। তাই নারী ঘরে তাদের নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করবেন। যদি আগে থেকেই ঘরে নামাজের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত না থাকে তাহলে ইতিকাফের জন্য একটি স্থান নির্ধারিত করে নিবেন। এরপর সেখানে ইতিকাফ করবেন। (উমদাতুল কারি ১১/১৪৮; মিরকাতুল মাফাতিহ ৪/১৪৪৬)
ইতিকাফের স্থান পর্দায় আবৃত করা
নারীরা তাদের ইতিকাফের স্থান পর্দা দিয়ে ঢেকে নিবেন। যেন ঘরে কোনো বেগানা পুরুষ লোক আসলে তাদের স্থান পরিবর্তন করতে না হয়।
স্বামীর অনুমতি গ্রহণ
বিবাহিত নারী ইতিকাফ করতে চাইলে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে।
স্বামীর অনুমতি ছাড়া ইতিকাফ করা অনুচিত। আর স্বামীদের উচিত, যুক্তিসংগত ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীদের ইতিকাফে বাধা না দেয়া। তাদের ইতিকাফের সুযোগ করে দেয়া। এতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ই সওয়াব পাবেন। (রদ্দুল মুহতার ২/৪৪১; ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২১১)
ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ
নারীদের ঋতুস্রাব অবস্থায় ইতিকাফ করা সহিহ নয়। কেননা এ অবস্থায় রোজা রাখা যায় না। আর সুন্নত ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত। (বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭৪; ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২১১)
ইতিকাফ অবস্থায় ঋতুস্রাব শুরু হলে
ইতিকাফ শুরু করার পর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। পরে শুধু একদিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫০২)
ইতিকাফের স্থান থেকে বের হওয়া
নারীরা ঘরের যে স্থানটিকে ইতিকাফের জন্য নির্ধারিত করবেন, তা তাদের ক্ষেত্রে মসজিদের মতোই গণ্য হবে। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া তারা সেখান থেকে বের হতে পারবেন না। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া সে স্থানের বাইরে ঘরের অন্যত্র গেলেও ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২১১; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮২)
আর প্রাকৃতিক প্রয়োজন বলতে বুঝায়, প্রশ্রাব-পায়খানা। সুতরাং ইতিকাফ অবস্থায় নারীরা প্রশ্রাব-পায়খানার জন্য ইতিকাফের স্থান থেকে বের হতে পারবেন। ওজুর জন্য বাইরে যেতে পারবেন। আর যদি এসবের জন্য ইতিকাফ-কক্ষের ভিতরেই সংযুক্ত বাথরুম থাকে; তাহলে এর জন্য বাইরে যেতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: অজু ছাড়া ইফতার করা যাবে?
ইতিকাফ অবস্থায় আমল
ইতিকাফ অবস্থায় নফল নামাজ আদায় করা, কোরআন-হাদিস তিলাওয়াত করা, জিকির করা, জ্ঞান শিখা ও শিখানো, ইসলামি বইপত্র পড়াসহ সব সওয়াবের কাজ করা বৈধ। দুনিয়াবি আলোচনা করা, প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করার অনুমতি নেই।
]]>
১ ঘন্টা আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·