নারী ফুটবলারদের বিদ্রোহ ও সাফল্যেগাঁথা একটি বছর

৩ সপ্তাহ আগে
শেষ হওয়ার পথে আরেকটি বছর। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা নানা বিষয় নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। একদিকে, নারী ফুটবলাররা কোচের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে খেলা বয়কট করেন। অপরদিকে, এই বছরই বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল পেয়েছে অভূতপূর্ব সফলতা।

ফুটবলারদের বিদ্রোহ

২০২৫ সালের শুরুতেই কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আলোচনায় আসে বাংলাদেশ নারী দলের ১৮ ফুটবলার। ৩০ জানুয়ারি সাবিনা, কৃষ্ণারা সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করেন, বাটলারের অধীনে তারা খেলবেন না। শুধু তাই নয়, ফুটবলাররা বাটলারকে নিয়ে লিখিত অভিযোগও দেন। বাফুফে ফুটবলারদের চিঠির ভিত্তিতে বিশেষ কমিটি গঠন করে।


বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল কোচ ও ফুটবলারদের সঙ্গে বারবার বৈঠকে বসেন ও আলোচনা করেন। পরবর্তীতে ফুটবলার ও কোচ দুই পক্ষই নমনীয় হয়। ফুটবলাররা বাটলারের অধীনে খেলা শুরু করেন। তবে সাবিনা, কৃষ্ণা, মাসুরা, সানজিদা ও সুমাইয়া—এই পাঁচজন ফুটবলারকে আর জাতীয় দলে ডাকেননি কোচ।


সাফল্য

বছরের শুরুতে ফুটবলাররা বিদ্রোহ করে আলোচনায় এলেও, বছরটা ছিল নারী ফুটবলারদের জন্য অন্যতম সফলতম। ২০২২ ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ নারী দল সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে পর পর দুইবার শিরোপা জেতার পর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে চলতি বছরও। এ বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল এশিয়া কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে, যা দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় সাফল্যের একটি।


আরও পড়ুন: সাবিনার নেতৃত্বে দল ঘোষণা বাংলাদেশের 
 

সাফ অনূর্ধ্ব–২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশসাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর উল্লাসে মাতে পুরো দল।



১৯৮০ সালের পরে এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো ফুটবল দল এশিয়ার সর্বোচ্চ আসরে অংশ নেবে। বাহরাইন ও মিয়ানমারকে হারিয়ে বাংলাদেশ এমন এক কীর্তি অর্জন করেছে যা আগে কোনো নারী দলের ছিল না। শেষ বার পুরুষ জাতীয় ফুটবল দল এশিয়া কাপ খেলেছিল সেই ৪৫ বছর আগে।


আসছে নতুন বছর ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান ফুটবলে নারীদের শ্রেষ্ঠত্বের আসর এএফসি এশিয়া কাপ। যেখানে ভালো করলে সুযোগ থাকবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার।


শুধু তাই নয়, জুলাই মাসে সাফ অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবলে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন মোসাম্মৎ সাগরিকা।


পিটার বাটলার

বছরটা নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ পিটারের বাটলারের জন্য ছিল আম্লমধুর। প্রথমত, নারী ফুটবলাররা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তখন মনে হচ্ছিলো, চাকরি হারাতে যাচ্ছেন তিনি। তবে সেটা তো হয়-ই নেই, নারী ফুটবলারদের বিদ্রোহের আগেই যে বাটলারের সঙ্গে ২ বছরের নতুন চুক্তি করেছিলো বাফুফে সেই চুক্তির সঙ্গে অটল ছিল বোর্ড। এদিকে, বিদ্রোহের পর প্রথমবারের মতো নারী ফুটবল দলকে নিয়ে গেছেন এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন