বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফতুল্লার চৌধুরিবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামালসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ১৪ লাখ টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
গ্রেফতাররা হলেন, বন্দর উপজেলার চৌরাপাড়া এলাকার হাবিব মিয়ার ছেলে পারভেজ (৩৬) ও সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধিন লালপুর এলাকার কাদির মাঝির ছেলে মিয়াজ (৩০)। তারা ফতুল্লার রহিম চৌধুরির বাড়ির ভাড়াটিয়া।
ফতুল্লা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন জানান, এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর শেরে বাংলা রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। গত ১১ মার্চ বিকেলে শিক্ষক জহিরুল ইসলাম তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বাইরে মার্কেটে যান। এ সুযোগে তালা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ ২৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা একদল চোর। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগি শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: ‘নেশার টাকার জন্য’ বেয়াইয়ের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার চুরি, বাবাসহ আটক জামাই
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় মামলা দায়েরের পর চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারে আমরা তদন্তসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করি। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে আমি ও এসআই মো. রফিক থানা পুলিশের ফোর্স নিয়ে ফতুল্লার চৌধুরিবাড়ি এলাকায় অভিযান চালাই। রহিম চৌধুরর বাড়ির ভাড়াটিয়া পারভেজ ও মিয়াজ নামে দুইজনকে চুরির ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার করি।
পরে তাদের কাছ থেকে শিক্ষক জহিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে চুরি হওয়া ৭টি স্বর্ণের চেইন, ২টি নেকলেস, ১টি ব্রেসলেট, ৪ জোড়া কানের দুল সহ মোট ৫ ভরি ১৪ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার, নগদ ২৫ হাজার টাকা, একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামি দুইজনই পেশাদার চোর। তারা বিভিন্ন বাসা বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল চুরি করে থাকে। আসামিদের বিরুদ্ধে এর আগের একাধিক মামলাও রয়েছে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে উদ্ধারকৃত মালামাল মাসদাইর এলাকার জহিরুল ইসলামের বাসা থেকে চুরি হওয়া সম্পদ।
আরও পড়ুন: দেয়াল ভেঙে জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকা ও ২২০ ভরি স্বর্ণ-রুপা লুট
গ্রেফতার আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
]]>

৪ সপ্তাহ আগে
৫








Bengali (BD) ·
English (US) ·