নান্দাইলে ইমাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তীতে মিলনমেলা

২ সপ্তাহ আগে
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইমাম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন একদিনের জন্য ফিরে গিয়েছিল অতীতে। কলরব, আড্ডা আর হাস্যোজ্জ্বল মুখে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। কেউ কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত, কেউ স্মৃতিচারণায় মগ্ন, আবার অনেকে স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখতে ব্যস্ত সেলফিতে।

বিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তীতে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সিনিয়র প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যেন ফিরে গিয়েছিলেন তাদের শৈশব-কৈশোরে। সম্প্রতি এই আয়োজন করে বিদ্যালয়ের ১৯৬৯ থেকে ২০২৫ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। 


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে।


বিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৫৬টি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বর্তমান প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। মঞ্চে স্মৃতিচারণা চলাকালে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ছুটে যান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছে। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিক্ষকদের পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ শিক্ষকদের পা ছুঁয়ে দোয়া নেন, আবার কেউ ভালোবাসায় কপালে চুম্বন করেন।


হীরক জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব আশরাফুল হক রয়েল বিদ্যালয়ের নানা অজানা ইতিহাস তুলে ধরেন এবং প্রতিষ্ঠাতা ইমাম হোসেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।


আরও পড়ুন: স্কুলে সাবেকদের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন মোসাদ্দেকের ব্যাচ

২০০৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি খাতসহ বিচার বিভাগ, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, ব্যাংকিং, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিদেশে ব্যবসা ও রেমিট্যান্স খাতে তারা সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন।


তিনি আরও জানান, ২০০৮ ব্যাচের কৃতি শিক্ষার্থী সিভিল জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাথী ইসলামসহ অনেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ব্যস্ততার মধ্যেও সহপাঠীদের সঙ্গে সময় কাটানো, খোঁজখবর নেওয়া এবং একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ায় সহপাঠীরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সাথী ইসলাম বলেন, ‘এটি আমার বিদ্যালয়। আমি সবসময় শ্রেণিকক্ষের একটি বেঞ্চের একপাশে বসতাম। পেশাগত জীবনে এসেও সেই স্মৃতি ভুলতে পারিনি।’ 


তিনি তার পুরনো শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেকে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।


সকাল ১১টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত পরিবেশনা ও নাটকের মধ্য দিয়ে পুরো ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর। ভবিষ্যতে শতবর্ষ পূর্তিতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন