নাটোরে কোরবানির প্রস্তুতিতে উদ্বেগ, লোকসানের ভয়ে আগেভাগেই গরু বিক্রি করছেন খামারিরা!

১৪ ঘন্টা আগে
চলতি বছর নাটোর জেলায় কোরবানির চাহিদার চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার বেশি গরু পালন করা হলেও লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। তাদের দাবি, গবাদিপশুর খাবারের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে গেছে, ফলে লোকসানের বোঝা বাড়ছে খামারিদের ওপর।

নাটোর সদর উপজেলার ডাল সড়ক এলাকার গরুর খামারি রেকাত আলী। ২০১৫ সাল থেকে তিনি ৬০০ কেজি থেকে ১২০০ কেজি ওজনের গরু উৎপাদন করে আসছেন। প্রতি বছর কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য বড় বড় দেড় শতাধিক গরু পালন করেন তিনি। তবে প্রথম ৫ বছর লাভ করলেও ২০২০ সালের করোনার সময় থেকে তিনি নিয়মিত লোকসান গুনছেন।

 

খামার মালিক রেকাত আলী বলেন, টানা ৫ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা লোকসান গোণার পর এবার ঈদের জন্য ১০০টি বড় গরু পালন করেছি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতায় গরুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। অন্য বছরের চেয়ে এবার বেশি লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই গত সপ্তাহে অর্ধেক গরু লোকসানে বিক্রি করে দিয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, অন্য ব্যবসার লাভ দিয়ে গরুর খামারের ব্যাংক লোনের টাকা পরিশোধ করতে হয়। অব্যাহত লোকসানের কারণে খামার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অবশিষ্ট গরু কোরবানির ঈদে বিক্রির পর খামার বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

এই পরিস্থিতি শুধু রেকাত আলীর নয়; জেলার ছোট-বড় প্রায় ১৮ হাজার গরুর খামার মালিক একই অবস্থার মুখে পড়েছেন। প্রতিবছর গরুর খাবারের দাম বাড়লেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। বেকারত্ব দূর করতে অনেক যুবক খামার শুরু করলেও প্রত্যাশিত লাভ না হওয়ায় সেই আশা পূরণ হচ্ছে না।

 

আরও পড়ুন: নাটোরে গরুর চামড়ায় লাভ, ছাগলে ধস!

 

ফলে গরু পালন লাভজনক করতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন খামার মালিকরা। নলডাঙ্গার ঠাকুর লক্ষিকোল এলাকার রনি বলেন, কর্মসংস্থানের আশায় খামার শুরু করলেও লোকসানের কারণে তা স্থায়ী হয়নি। সরকারে সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

নলডাঙ্গার খামার মালিক নাজমুল বলেন, লাভের আশায় তিন বছর ধরে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য গরু পালন করছি। কিন্তু গরুর খাবারের দাম বাড়লেও গরুর দাম না বাড়ায় লাভের মুখ দেখতে পারছি না।

 

এদিকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা গরুকে ফিড খাবারের পরিবর্তে ঘাসজাতীয় খাবার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, আসন্ন কোরবানিতে বাইরের দেশ থেকে গরু আসার সম্ভাবনা না থাকায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি খরচ কমাতে ফিডের পরিবর্তে ঘাসজাতীয় খাবার ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

চলতি বছর নাটোর জেলায় প্রায় ৭৫ হাজার গরু কোরবানির জন্য জবাই হতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ। আর কোরবানির জন্য চলতি বছর মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার গরু পালন করা হয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন