দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।
নতুন সরকারের সামনে যত চ্যালেঞ্জ- মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম এটি।
দুই দশক পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপি। জনতার বিপুল সমর্থনে দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে দলটি। ইতিমধ্যে ৬০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদও গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব নেয়ার পরদিনই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে নতুন সরকারের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা- এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া জনতুষ্টিবাদী পদক্ষেপ এড়িয়ে ব্যয়ে সংযম, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও মব জাস্টিস বন্ধ এবং কাঠামোগত সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থনৈতিক দায়-দেনা ও পূর্ববর্তী চুক্তি পর্যালোচনা করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’র ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে- তিনটি বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে। এগুলো হলো- পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা, অন্তর্বর্তী সরকারের অসমাপ্ত সংস্কার প্রক্রিয়া এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা।
সম্প্রতি ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, এ বাস্তবতায় সরকারকে এখনই জনতুষ্টিবাদী কোনো উদ্যোগ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি। সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার কথা বলেছে। তবে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে ধৈর্য ধরতে হবে। চলতি অর্থবছরে বড় কোনো নতুন উদ্যোগ না নিয়ে বরং আগামী অর্থবছরের জন্য সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নেয়াই হবে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সহজ হবে।

সারাদেশে গ্যাস সংকট, রমজানে দুর্ভোগ- সমকালের প্রধান শিরোনাম এটি।
মগবাজারের চেয়ারম্যান গলির বাসিন্দা সামান্তা রহমান। গত প্রায় চার মাস ধরে তাঁর বাসায় দিনের বেলা গ্যাস থাকে না। রাতে কিছুটা পাওয়া গেলেও চাপ থাকে না। শুধু তাঁর বাসা নয়, পুরো এলাকাতেই এমন সমস্যা।
সামান্তা গতকাল সমকালকে বলেন, দিনে গ্যাস থাকেই না। এতদিন কোনো রকমে কাটানো গেলেও রোজায় অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েছি। ইফতার ও সাহ্রি দুই সময়ের খাবার তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত আজকে (শুক্রবার) ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি।
শুধু মগবাজারই নয়, ঢাকাসহ দেশের একটা বড় অংশে পাইপলাইনের গ্যাসের প্রচণ্ড স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও আবার অল্প আঁচে টিমটিম করে জ্বললেও রান্না করতে লাগছে দ্বিগুণ সময়। এই সংকটের মধ্যেই বিকল্প হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। সেখানেও চলছে নৈরাজ্য। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০-৫০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
বনশ্রীর ব্লক-ডি এলাকার বাসিন্দা নাহিদ হাসান জানান, মাঝ রাতে গ্যাস আসে। তখন সাহ্রির রান্না করতে হয়। এরপর সারাদিন চুলা জ্বলে না। ইফতারি বাইরে থেকে কিনে খেতে হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুর ১০-এর বি-ব্লকের বাসিন্দা মাকসুদুর রহমান বাচ্চু বলেন, গত চার মাস ধরে গ্যাস সংকটের মধ্যে আছি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। রান্না নিয়ে খুব সমস্যা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় তিন ঘণ্টা বাড়িয়েছে জ্বালানি বিভাগ। পাশাপাশি নতুন সরকার সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি খাতে ১০০ দিন এবং পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ গতকাল শুক্রবার রাতে সমকালকে বলেন, গ্যাসের স্বল্পচাপের মূল কারণ হলো সরবরাহ কম। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ালে বিদ্যুতে কম পড়ে। বিদ্যুতে দিলে আবাসিকে টান পড়ে।

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম— ভাষার সঙ্গে বিপন্ন সংস্কৃতিও।
এই খবরে বলা হয়েছে, দেশের অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি এখন হুমকির মুখে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মা তার ভাষায় সন্তানদের সঙ্গে কথা বলছেন না।
ফলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব ভাষা দুর্বল হয়ে যাছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে। ভাষার সঙ্গে বিপন্ন হচ্ছে সংস্কৃতিও।
২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে স্বল্প পরিচিত ২০টি জনগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে গবেষণার কাজ শুরু করে আন্তর্জাতিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামার ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকস (এসআইএল) ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত স্বল্প পরিচিত ১৫টি জনগোষ্ঠীর ওপর গবেষণা শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি।
গবেষণার তৃতীয় ও শেষ পর্বে ২০২৪ সালে পাঁচটি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিরূপণ করে এসআইএল, যা গত বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশ করা হয়। এগুলো হলো— গড়াইত, গুর্খা, খেড়োয়ার, ভূঁইমালী, লোহার ও শবর।
গবেষণায় দেখা গেছ, মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনগ্রসরতার কারণে মাতৃভাষা গুরুত্ব পাচ্ছে না এসব সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে। জীবিকার তাগিদেই তারা ঝুঁকছে বাংলা বা অন্য ভাষার দিকে। এসব জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং ভূমিহীন।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম— ভাষাজ্ঞানে দুর্বল শিক্ষার্থীরা, পিছিয়ে শিক্ষা ও কর্মজীবনে।
এই খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে দেশে ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কথা নতুন করে উচ্চারিত হয়।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজি— দুই ভাষাতেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করেই এক শ্রেণি থেকে আরেক শ্রেণিতে উঠছে।
শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পরও ভাষাদক্ষতায় পিছিয়ে থাকে। তারা ভালো বাংলা লিখতে পারে না। আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজিতেও দক্ষ হতে পারছে না।
এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে।
এই সংকটের শুরু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে। প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের ভাষাদক্ষতা কেমন, তা উঠে এসেছিল ২০২৩ সালে সেভ দ্য চিলড্রেন ও গণসাক্ষরতা অভিযানের একটি গবেষণায়।
দুইটি উপজেলার ৩২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ২ হাজার ২৯ শিক্ষার্থীর ওপর করা ওই গবেষণায় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা যত উপরের শ্রেণিতে উঠছে, ভাষাশিক্ষার ঘাটতিও তত বাড়ছে।
এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি ছিল ৭০ শতাংশ। আর ইংরেজিতে প্রায় ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থীর ঘাটতি ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষাশিক্ষায় দুর্বলতা এখন বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি কাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে।

শেষ সময়ে তড়িঘড়ি চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ভুল কি— বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম এটি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে ৯ই ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে সই করে অন্তর্বর্তী সরকার।
মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখা এবং সম্ভাব্য শুল্কচাপ এড়ানোর কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে চুক্তিটিকে উপস্থাপন করেছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার।
যদিও ভোটের আগ মুহূর্তে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর না করে বিষয়টি নতুন সরকারের ওপর ছেড়ে দিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বিষয়টি আমলে নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার।
এর মধ্যে গতকাল শনিবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কারোপ অবৈধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের কাছে রায়টি পুনরায় বিবেচনা করার অনুরোধ করতে পারে। যদিও এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা এবং রায় পাল্টে যাওয়ার নজির নেই বললেই চলে।
তাতে আবারো প্রশ্ন উঠছে— নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি, বহুমাত্রিক শর্তযুক্ত চুক্তিতে সই করা কি অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল?
এদিকে, এই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ ট্যারিফ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করবেন। এটি তিনদিন পর থেকে কার্যকর হবে।
যেসব দেশ এরই মধ্যে চুক্তি করে ফেলেছে তাদের বিষয়ে ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্যবৃদ্ধির কারণ খুঁজছে প্রশাসন— যুগান্তরের দ্বিতীয় প্রধান খবর এটি।
এই খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বুধবার প্রথম দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালের বাইরে যেন না যায়, সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে।
যার মধ্যে রয়েছে, বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনের কারণ শনাক্ত করা; বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের বাজার মনিটরিংয়ে সম্পৃক্ত করা এবং টিসিবিকে আরও শক্তিশালী করা।
এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত তারা বাজার মনিটরিং করবেন।


৩ সপ্তাহ আগে
৫







Bengali (BD) ·
English (US) ·