নতুন বছরে সিরিয়ায় নতুন নোট

১ সপ্তাহে আগে
পুরানো নোটের বিনিময়ে নতুন ব্যাংক নোট নিচ্ছেন সিরিয়ার বাসিন্দারা। আসাদ সরকারের আমলের নোট বদলের মাধ্যমে দেশটির মুদ্রার মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে সরকার। যদিও, এই পদক্ষেপ দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যাংকাররা।

বাশার আল আসাদের পতনের পর সিরিয়া পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির অর্থনীতি থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে নিচ্ছেন নানা পদক্ষেপ। তারই অংশ হিসেবে নতুন ব্যাংক নোট ছাপানোর উদ্যোগ নেয় শারা প্রশাসন।

 

দেশটির মুদ্রার মানকে তলানিতে পৌঁছানো থেকে বাঁচাতে ২০২৬ এর ১ জানুয়ারি থেকেই নোট বদলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকেই ব্যাংকে নাগরিকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।

 

নতুন নোটে দুইটি শূন্য কমে যাচ্ছে। যাকে মুদ্রার পুনর্মূল্যায়ন বলে। এতে, মুদ্রার মান একই থাকলেও এর পরিবর্তে সমতুল্য ছোট সংখ্যার নোট ব্যবহার করা হয়। এতে বাজারে ছাড়া হয়েছে ১০ থেকে শুরু করে ৫০০ সিরিয়ান পাউন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন মানের নোট। যেখানে থাকছে গোলাপ, গম, জলপাই, কমলাসহ সিরিয়ার জনপ্রিয় বিভিন্ন কৃষিসংক্রান্ত প্রতীক।

 

প্রেসিডেন্ট শারা বলেন, নতুন নোটের নকশা দেশের জাতীয় পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ হবে। যেখানে ব্যক্তিপূজার ছিটেফোঁটা থাকবে না।

 

সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন বাসিন্দারা। তারা বলেন, এটা বেশ বড় একটা পার্থক্য। বেশ বড়। পুরানো টাকা দিয়ে বেচাকেনা করতে হলে আমাদের বস্তা ভর্তি করে পাউন্ড নিয়ে যেতে হতো। সবসময় ডাকাতের ভয়ে দিন কাটাতে হতো আমাদের।

 

বাসিন্দারা আরও জানান, অবশ্যই আমরা প্রথমে কিছুটা এলোমেলো করে ফেলবো। যেমন ১০ লাখ পাউন্ড মানের নোট হয়ে যাচ্ছে ১০ হাজার পাউন্ডের। সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এখন আমরা স্বচ্ছন্দে মানিব্যাগে টাকা রাখতে পারবো। সরকারের এই পদক্ষেপের জন্য তাদের ধন্যবাদ প্রাপ্য।

 

তবে ব্যাংকারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে দোটানা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এতে দেশের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। কমে যাবে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটি মসৃণ ও শৃঙ্খলা মেনেই করা সম্ভব হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন