নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

১ মাস আগে
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেয়া প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা এবং এর সীমাবদ্ধতাসমূহের আইনি এবং কারিগরি দিকসমূহের পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে।

 

এছাড়া এতে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের পাশাপাশি, নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে আটটি মানদণ্ডের সাপেক্ষে আটটি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়।

 

বাংলাদেশের কিছু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুম ও বেআইনি আটক সংক্রান্ত ঘটনা এবং একইসঙ্গে নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সাফল্য- এই দুই বাস্তবতার সম্মিলিত প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদন প্রণীত হয়।

 

বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামোগত ঝুঁকি, শাসনগত ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

 

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাকে যারা আটক করেছে তারা সিদ্ধান্ত নেবে: ইসি সচিব

 

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে তথ্যভিত্তিক, তুলনামূলক ও নীতিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে। প্রতিবেদনে বর্তমানে প্রচলিত অসম্পূর্ণ ও স্বচ্ছতাহীন কাঠামো থেকে বেরিয়ে; মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক, এবং অডিট-ড্রাইভেন ‘দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা (টু-লেয়ার ট্রান্সপারেন্সি মডেল)’ কাঠামো সম্বলিত আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা একটি বৈশ্বিক মানসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে।

 

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) দিকনির্দেশনা, অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও চর্চা, মানবাধিকার মানদণ্ড এবং বাংলাদেশের বাস্তব প্রশাসনিক সক্ষমতা, এই সবকিছুর আলোকে বাস্তবসম্মত সংস্কারপথ উপস্থাপন করাই ছিল প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে কমিটি।

 

আরও পড়ুন: নাটক হলে ওরাও কি যুক্ত, প্রশ্ন নজরুল ইসলাম খানের

 

কমিটির প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল এনটিএমসি বিলুপ্তি এবং টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ, ৯৭গ সংস্কারের বিস্তারিত রোডম্যাপ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইনের সংশোধিত ভার্সন গেজেটভুক্ত করেছে। এছাড়াও এই কমিটি অধিকতর রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধানের প্রস্তাব করেছে।

 

প্রতিবেদন প্রণয়নের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে পরস্পরবিরোধী নয় বরং পরস্পরসম্পূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো নির্মাণের প্রয়াস নেয়া হয়েছে।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন