‘ধানপচা গন্ধে ভারী হাওরের বাতাস’, ‘ভালো নেই শ্রমিকরা’

৪ দিন আগে
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (১ মে) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।


পরিকল্পনার শুরু থেকেই গলদ - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান খবর এটি।


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় এক দশক ধরে চলছে বড় বড় প্রকল্প। খাল খনন, খাল সম্প্রসারণ, রেগুলেটর নির্মাণ, সড়ক, বাঁধ—নানা নামে তিন সরকারি সংস্থার চার প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে খরচ হয়ে গেছে ১০ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল, বর্ষা এলেই ডুবে যাওয়া শহরকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই আবার ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

 


গত মঙ্গলবার দুপুরের পর কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে প্রবর্তক, চকবাজার, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, জিইসি, বহদ্দারহাট, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথাসহ অন্তত ২০টি এলাকা পানির নিচে চলে যায়। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও বুকপানি জমে। অনেক এলাকায় পানি নামতে লাগে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। পরদিন বুধবারও প্রবর্তক, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশসহ কয়েকটি এলাকায় একই দুর্ভোগ দেখা যায়।


শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ভাগ করে নেয় ঢাকার ১০ অঞ্চল - দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদ এটি।


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকাকে ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত করে একেকটির দায়িত্ব দেওয়া হয় একেক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে। দায়িত্ব বণ্টনের আগে শর্ত ছিল নিজ এলাকার বাইরে অন্য এলাকায় গিয়ে কেউ খবরদারি করতে পারবে না। কিন্তু ‘গডফাদারের’ এই নির্দেশ মানছে না সন্ত্রাসীদের কোনো গ্রুপ। ফলে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।

 

 


আন্ডারওয়ার্ল্ডে চলছে আধিপত্যের লড়াই। আর এ লড়াইকে কেন্দ্র করেই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে বাড়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। এর জেরেই রাজধানীতে একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অঘটন। হচ্ছে নিজেদের মধ্যে খুনাখুনিও।


দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার বেশি - দৈনিক বনিকবার্তা প্রকাশিত সংবাদ এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার শেওড়াপাড়ায় দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন গৃহকর্মী জুলেখা আক্তার। দুই সন্তানের জননী জুলেখা জানান, তার বড় মেয়ের লেখাপড়ায় খুব আগ্রহ ছিল। ঢাকায় খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি বলে তার বাবার বাড়ি নরসিংদীতে মেয়েকে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়িয়েছিলেন। কিন্তু এর পরে স্কুলের ভর্তি, পরীক্ষার ফি, প্রাইভেট টিউশনের ফি, পোশাক, বই-খাতা—সব মিলিয়ে আর খরচ চালাতে পারেননি।


দেশের আরও অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানের মতো জুলেখা আক্তারের মেয়েও প্রাথমিক পর্যায় শেষ করলেও মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হতে পারেনি।


অবিশ্বাস্য জামিন জালিয়াতি - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম এটি।


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক অবিশ্বাস্য জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিনের’ ২০ হাজার পোশাক জব্দের মামলার আসামি তথ্য গোপন করে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ হয়েছে। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে আদালত অঙ্গনে।

 

 


চাঞ্চল্যকর এই জামিন জালিয়াতির ঘটনা সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নজরে আনেন রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল। বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্তে রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। একইসঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।


ভালো নেই শ্রমিকরা - দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত খবর এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা দিন। এই দিনের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে স্বীকৃত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিম্ন মজুরি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং অনিরাপদ কর্মপরিবেশের কারণে বাংলাদেশের শ্রমজীবীদের ভাগ্যবদলের চাকা দীর্ঘদিন ধরে সামনে এগোতে চায় না। পোশাক শিল্পে ৩ লক্ষাধিক শ্রমিক ১৩ হাজার টাকার কম বেতনে কাজ করছেন, যা জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত কম।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ দিনমজুরের কাজ ও ভালো মজুরির নিশ্চয়তা নেই। এই শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন নির্মাণশ্রমিক, জাহাজভাঙা শ্রমিক, গৃহশ্রমিক, মাটিকাটা শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, রিকশা শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, জেলে বা মত্স্য শ্রমিক ও কারখানার শ্রমিক। তারা মূলত খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন এবং তাপপ্রবাহের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন।


ধানপচা গন্ধে ভারী হাওরের বাতাস - দৈনিক সমকালে প্রকাশিত সংবাদ এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ​পাঁচ দিন পর হাওরের আকাশে রোদের দেখা মিলেছে। পানিও কিছুটা নেমেছে। রোদ আশা জাগালেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র স্বস্তির খবর দিতে পারেনি। সংস্থাটি বলছে, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলে যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেটির উন্নতি হতে সপ্তাহ পেরিয়ে যেতে পারে।

 

 


এমন পরিস্থিতিতে হাওর এলাকায় নিমজ্জিত পাকা ধানের আশা ছেড়েই দিয়েছেন কৃষকরা। এসব জমিতে ধান পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। পানি কমলেও বেশির ভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও যে যেভাবে পারছেন ধান কাটছেন। যে সময়টায় সোনালি ধানের ঘ্রাণ ভেসে থাকার কথা, সে সময়ে হাওরজুড়ে হতাশা আর পচা ধানের গন্ধ। মাঠজুড়ে নেই কোলাহল, প্রাণচাঞ্চল্য।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন