ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই নিশাতকে হত্যা করেন প্রতিবেশী

৬ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে নিশাত জাহান (৬) নামে এক শিশুকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মূলত ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতেই এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন প্রতিবেশী মো. ইছা মিয়া।

এ ঘটনায় শিশুটির মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


এরপর বিকেলে এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশা চালক মো. ইছা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যার দায় শিকার করেন ইছা মিয়া।


পুলিশ ও পরিবারের স্বজনরা জানান, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে মোহনপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে চিপস কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হন স্থানীয় ডিএমসি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নার্সারি বিভাগের শিক্ষার্থী শিশু নিশাত জাহান। পরে ঘটনার দুদিন পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় শিশু নিশাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত শিশু নিশাত মোহনপুর গ্রামের মো.আবু সাদেকের মেয়ে।


এ দিকে ঘটনার পর রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ, ডিবি, পিবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তদন্ত চলাকালে পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় পিবিআইয়ের সন্দেহ হয় এই ঘটনার সঙ্গে প্রতিবেশী অটোরিকশা চালক মো. ইছা মিয়া জড়িত থাকতে পারেন। পিবিআই ইছা মিয়াকে তাদের হেফাজতে নিলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশু নিশাত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।


আরও পড়ুন: মাদারীপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ


জিজ্ঞাসাবাদে ইছা পিবিআইকে জানান, শিশুটিকে নিয়ে তিনি দিনভর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রসুলপুর, শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘোরাফেরা করেন। পরে রাতে নির্জন ফাঁকা বাসায় অসৎ উদ্দেশ্যে শিশুটিকে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি কান্না করতে থাকে এবং এই ঘটনা তার মা বাবাকে জানিয়ে দেবে বলে ইছাকে জানায়। মূলত ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে শিশুটিকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয় বলে পিবিআইকে জানায় ইছা মিয়া।


এ দিকে ইছাকে গ্রেফতারে খবরে এলাকাবাসী তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ইছার অটোরিকশাসহ তার বসতঘর আগুনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেন। তারা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।


বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে ঘাতক ইছার ফাঁসি দাবি করছি।’


স্থানীয় অপর বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাত্র ছয় বছরের শিশুর সঙ্গে এমন পাশবিক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’


আরও পড়ুন: কী ঘটেছিল শিশু ইরার সঙ্গে, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা ঘাতকের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি করছি।’


এ ব্যাপারে শিশুটির নানা লোকমান হোসেন জানান, নাতনির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে না ঘটে। আমরা তার বিচার দাবি করছি। ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত ঘাতকের ক্ষমা নেই।


এ ঘটনায় পিবিআই পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, ঘাতক শিশুটিকে নিয়ে যে সব জায়গায় গিয়েছে, আমরা সবগুলো স্পট পরিদর্শন করেছি। মূলত সে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ এবং ঘটনাটি শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জেনে ফেলার ভয়েই তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ঝোপের মাঝে ফেলে দেয়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন