দেড় বছরেরও বেশি কাঁধে করে মাকে হাসপাতালে নিচ্ছেন বিস্ময়কর তরুণ

১৭ ঘন্টা আগে
মিসরের মানসুরা শহরে এক তরুণ আজ সন্তানের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান ও মায়ের একমাত্র সহায়ক হিসেবে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎকে সরিয়ে রেখেছেন মায়ের পাশে থাকার জন্য।

বিয়ে কিংবা কর্মজীবনের পরিকল্পনা আপাতত তার কাছে গৌণ। তার প্রথম ও একমাত্র অগ্রাধিকার, মা যেন কখনো একা না থাকেন।

 

২০২৪ সালের জুলাই থেকে তাদের জীবন যেন এক অবিরাম সংগ্রামের নাম। সপ্তাহে কয়েকদিন তাকে মাকে নিয়ে যেতে হয় স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে, যেখানে চলতে থাকে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা। জানা যায় ছেলেটির নাম ইসলাম। 

 

আর্থিক সংকটের কারণে বেসরকারি পরিবহন তাদের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে গণপরিবহনও তাদের রুটে সুবিধাজনক নয়। ফলে প্রতিটি যাত্রাই হয়ে ওঠে শারীরিক কষ্টের এক কঠিন পরীক্ষা।

 

আরও পড়ুন: সেহরি না খেয়ে কি রোজা রাখা যাবে?

 

মা যতদূর পারেন হেঁটে যান। তারপর ক্লান্ত শরীর আর এগোতে না পারলে ছেলের কাঁধই হয়ে ওঠে তার ভরসা। তিনি মাকে তুলে নেন নিজের বাহুতে। এভাবেই পথের বাকি অংশ পাড়ি দেন। 

 

দুই বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে মা নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। কোনো স্বাস্থ্যবিমা নেই। চিকিৎসার প্রতিটি ধাপই নির্ভর করছে ছেলের অক্লান্ত শ্রম আর অটুট মানসিক শক্তির ওপর।

 

চরম দারিদ্র্যের মাঝেও এই তরুণ প্রমাণ করেছেন, মানবিকতা এবং মাতৃভক্তি এখনো পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি। তার অবিচল উপস্থিতি, নিরব ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা যেন এক জীবন্ত বার্তা-সম্পদের অভাব মানুষকে নিঃস্ব করতে পারে, কিন্তু দয়া, মমতা ও আনুগত্যকে নিঃশেষ করতে পারে না। সূত্র: টেলিগ্রাফ মিশর

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন