দেড় বছর ধরে খুঁড়ে রাখা সড়ক, দুর্ভোগে তিন উপজেলার ১৫ গ্রাম

১ দিন আগে
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার লাওকোরা মুক্তিযোদ্ধা সড়কের সংস্কার কাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের উয়ারুক স্টেশন থেকে লাওকোরা বটতলী পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের এই সড়কটি এখন তিন উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনায় ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে রোগব্যাধি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ ঠিকাদারের জামানত জব্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের খোয়া ও ইট উঠে গিয়ে বর্তমানে বালুর স্তূপে পরিণত হয়েছে। যানবাহন চলাচল করলেই ঘন ধুলার আস্তরণে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার প্রায় দুই লাখ বাসিন্দা।


স্থানীয় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ইব্রাহিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উয়ারুক স্টেশনে একবার আসা-যাওয়া করলেই কাপড়চোপড় সব লাল হয়ে যায়। ধুলার কারণে রাস্তার পাশের দোকানপাট আর বাড়িঘরের টিনও এখন চেনার উপায় নেই।


শিক্ষক ফারাজ হোসেন ভূঁইয়া জানান, ধুলার কারণে ১০ হাত দূরের জিনিসও দেখা যায় না। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।


এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়ক সংস্কারের কাজ পায় ‘আইভি ওয়াই কনস্ট্রাকশন’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। তবে মূল ঠিকাদার কাজটি নিজে না করে ভায়া হিসেবে ‘আফজাল ট্রেডার্স’ নামক অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেন।


কাজের শুরুতে সড়কের কার্পেটিং তুলে 'মেগাডম' (খোয়া বিছানো) করা হলেও এরপর দীর্ঘ ১৮ মাস আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। লাওকোরা গ্রামের ইউপি সদস্য রহমত উল্লাহ বলেন, ঠিকাদারকে বারবার ফোন দিলেও তিনি শুধু আশ্বাস দেন, কিন্তু কাজ করেন না।


আরও পড়ুন: খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে ধীরগতি, ভোগান্তি


দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখায় স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. তাহসিনুল হোসেন মুকুল জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার চিঠি দিয়েও কাজ শুরু করানো যায়নি।


তিনি বলেন, আইভি কনস্ট্রাকশন দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখায় আমরা তাদের ব্যাংকে রাখা জামানত জব্দের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চিঠি দিয়েছি। বর্তমানে জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে।


অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. আফজাল হোসেনের দাবি, তারা ইতোমধ্যে ৫ কিলোমিটার সড়কের ডব্লিউবিএম (খোয়া বিছানোর কাজ) শেষ করেছেন। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে কার্পেটিং শেষ করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দেবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ দেড় বছরের ভোগান্তির পর এখন আর কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে তারা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। দ্রুত দৃশ্যমান কাজ দেখতে চান তিন উপজেলার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন