দক্ষিণখানের ‘মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’ থেকে আসা এই দুই তরুণ আজ এক নতুন ইতিহাস লিখছেন। চোখের আলো না থাকলেও তাদের আছে হৃদয়ের আলো। দেশে এ প্রথম ব্রেইল পদ্ধতিতে অভিন্ন প্রশ্নে তারা পরীক্ষা দিচ্ছেন একই হলে।
তাদের জীবনে কোনো রং নেই, কারণ তাদের চোখে আলো নেই। আমাদের পৃথিবীটা যেখানে কোলাহলে ভরা, তাদের জগৎটা সেখানে একদম নিস্তব্ধ, গভীর অন্ধকারে ঢাকা। কিন্তু এই অন্ধকার তাদের থামাতে পারেনি। চোখ দিয়ে তারা দুনিয়া দেখেননি ঠিকই, কিন্তু হৃদয় দিয়ে মুখস্থ করেছেন পবিত্র কোরআন ও হাদিস।
আরও পড়ুন: পড়াশোনার ফাঁকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি কারুকার্য
দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কেউ ব্রেইল পদ্ধতিতে দাওরায়ে হাদিস বা মাস্টার্স পরীক্ষা দিচ্ছেন। যে কঠিন পাঠ সাধারণ মানুষের জন্য পাহাড়সম, সেই পাহাড় জয় করেছেন এই দুই অদম্য মেধাবী। পৃথিবীকে এই দুই তরুণ দেখিয়ে দিল-- ইচ্ছা থাকলে আর আল্লাহর রহমত থাকলে কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতাই বাধা হতে পারে না। শরীরের চোখ বন্ধ হলেও, তাদের আত্মার চোখ আজ পুরোপুরি খোলা।
এই কঠিন লড়াইয়ের পর তাদের জন্য অপেক্ষা করছে জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওনা-- পবিত্র ওমরাহ। তারা কোনোদিন পৃথিবীর আকাশ দেখেনি, কিন্তু তারা ছোঁয়ে দেখবে পবিত্র কাবার গিলাফ। তারা দেখবে না ঠিকই, কিন্তু তাদের হৃদয়ের সবটুকু আবেগ দিয়ে তারা অনুভব করবে তাদের মালিককে।
আব্দুর রহমান আর জুবায়েরের গল্প এক ভিন্ন স্বপ্ন জয়ের গল্প। যে গল্প আমাদের শেখায়, আল্লাহ যাদের সাথে আছেন, তাদের পথ চলা কেউ থামাতে পারে না।
]]>
৪ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·