দেশে কমেছে বিদেশি গাড়ি আমদানি, নেপথ্যে কী?

২ দিন আগে
সংকটের পাশাপাশি জ্বালানির দাম বাড়ায় দেশে বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি কমতে শুরু করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশে এসেছে মাত্র ২ হাজার ৯১২টি গাড়ি। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরবর্তী মার্চ-এপ্রিল মাসে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অথচ আগের বছর মাত্র তিন মাসেই আমদানি হয়েছিল প্রায় চার হাজার গাড়ি।

মার্চ মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি শেডই আমদানি করা গাড়িতে পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু এপ্রিল মাসে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন অনেকটা খালি পড়ে আছে শেডগুলো। যেখানে অন্তত ৬০০টি গাড়ি রাখার সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে বর্তমানে আছে মাত্র ২১৮টি গাড়ি।

 

কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান বলেন, অনেকেই ধারণা করছেন জ্বালানির সংকট রয়েছে। তাই তারা এখন গাড়ি না এনে কিছুটা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ৬টি জাহাজে করে ২ হাজার ৯১২টি গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ১৫৩টি গাড়ি খালাস হলেও মার্চে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪৯৭টিতে। তবে এপ্রিল মাসে কিছুটা বেড়ে ৭৪৪টি গাড়ি খালাস হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে শেডে গাড়ির সংখ্যা অনেক কম। ফলে কোনো ধরনের জট বা বিঘ্ন নেই।

 

আরও পড়ুন: নানামুখী সংকটেও দেশে গাড়ি আমদানির হিড়িক

 

২০২৫ সালে বন্দর দিয়ে ৩১টি জাহাজে মোট ১৪ হাজার ১৬৪টি গাড়ি আমদানি হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই রেকর্ড ১ হাজার ৯৫৯টি গাড়ি আসে। বছরের প্রথম তিন মাসে মোট ৩ হাজার ৮৫৪টি গাড়ি ডেলিভারি দেয়া হয়েছিল। আর চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ৩ হাজার ৩৪০টি গাড়ি ডেলিভারির বিপরীতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস রাজস্ব পেয়েছে ৫৪৫ কোটি টাকা।

 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, মার্চ ও এপ্রিলে গাড়ি আমদানি কমেছে। বৈশ্বিক সংকট, যুদ্ধ এবং জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে আমদানিকারকরা এখন কম গাড়ি আনছেন।

 

বাংলাদেশে গাড়ি আমদানিতে ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জ্বালানির সংকট ও দাম বৃদ্ধি। ফলে গাড়ি কেনায় আগ্রহ কমে গেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

বারভিডার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবুর রহমান বলেন, এখন ক্রেতারা গাড়ি কেনায় আগ্রহী নন। বিশেষ করে জ্বালানির অনিশ্চয়তার কারণে তেলের গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অনেকেই দ্বিধায় আছেন। এর প্রভাব পড়েছে বিক্রি ও আমদানিতে।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি কার শেডের মোট ধারণক্ষমতা ১ হাজার ২৫০ ইউনিট। বর্তমানে সেখানে নিলামযোগ্য ৪১৩টি এবং সদ্য আমদানি করা ২০১টি মিলিয়ে মোট ৬১৪টি গাড়ি রয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন