দস্তরখান কেমন হবে?
হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়াবিশিষ্ট বড় পাত্রে খাবার খেতেন না। কাতাদা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে কীসের ওপর খানা খেতেন? তিনি বললেন, ‘চামড়ার দস্তরখানের ওপর।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৮৬)
দস্তরখানার চামড়া, রেক্সিন, কাপড় ইত্যাদি দ্বারা বানানো যাবে এবং পরিষ্কার ও ছবি বা লেখামুক্ত হওয়ার প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৮৭, ৫৩৮৬; তিরমিজি, হাদিস : ১৭৮৮; উমদাতুল কারি : ২১/৩৬; ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ১১/৩৪৪)
বিশেষভাবে লক্ষণীয়
দস্তরখানে খাবার রেখে খেলে মার্জিতভাব প্রকাশ পায়। বিনয় ও সভ্য-জীবনের অনুশীলনও হয়। এটা সরল ও নিরহংকার মানুষের স্বভাব। এছাড়াও দস্তরখানে খাবার রাখলে-- যেহেতু একটু নিচু হয়ে খাবার খেতে হয়, এতে পেটে চাপ থাকে। মাত্রাতিরিক্ত আহার করে দেহে মেদ তৈরির আশঙ্কা কম থাকে।
আরও পড়ুন: পড়াশোনার ফাঁকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি কারুকার্য
সে যুগে ‘সুফরা’ ছিল চামড়ার। তাতে আংটা থাকত। খুলে বিছালে দস্তরখান, গুটিয়ে ফেললে সফরের পাথেয় রাখার মতো ছোট ব্যাগ। ‘সুফরা’তে সাধারণত শুকনা খাবার রেখে খাওয়া হতো। এই ধরনের দস্তরখানা না হয়ে অন্য কোনো ধরনের দস্তরখান হলেও ব্যবহার করার চেষ্টা করব।
আমি যদি দস্তরখান ছাড়া খাই তাহলে খাবার নিচে পড়ে ময়লা লেগে যাবে; তা আবার পরিষ্কার করে তারপর খেতে হবে। কিন্তু যদি দস্তরখান বিছিয়ে নিই, তাহলে দস্তরখান থেকে তুলেই খেতে পারব। তেমনি শুকনো খাবার দস্তরখানে রাখাও যাবে।
আর মনে রাখতে হবে, দস্তরখান যেন হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। দস্তরখান কখনোই নোংরা করে রাখব না। অনেককে দেখা যায়, দস্তরখানে কাঁটা, হাড্ডি ইত্যাদি ফেলে। দস্তরখান তো এগুলো ফেলার জন্য নয়। এগুলো ফেলার জন্য আলাদা কোনো পাত্র থাকলে ভালো হয়। সুতরাং আমরা দস্তরখানে কাঁটা, হাড্ডি ইত্যাদি ফেলব না। তেমনি দস্তরখান ময়লা করেও রাখব না।
আরও পড়ুন: কোরআন ব্যাখ্যায় এআই ব্যবহার নিয়ে যা বললেন গ্র্যান্ড মুফতি
সাথে সাথে খেয়াল রাখব কাঁটা বা হাড্ডি পানির মধ্যে ফেলব না। কারণ তা আরেক প্রাণীর খাবার। হাত ধোওয়ার কাজ-আমল দস্তরখানে খাবার পরিবেশন করার আগে সেরে ফেললে ভালো। যাতে অসতর্কতায় হাত ধোওয়ার সময় খাবার পাত্রে পানির ছিটা না পড়ে।

১৭ ঘন্টা আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·