দশকের পুরনো ইস্টার সানডের ছুটির দাবি আবারও সামনে

১ সপ্তাহে আগে
বাংলাদেশের খ্রিস্টানরা আবারও ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটি ঘোষণার দীর্ঘদিনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং সমান স্বীকৃতির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার (মার্চ ৩১) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের আয়োজিত এক মানববন্ধনে কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নিয়ে এ দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

 

চার্চ নেতারা ও সাধারণ খ্রিস্টানরা জানান, বিভিন্ন সরকারের কাছে বারবার আবেদন জানানো হলেও বিষয়টি কয়েক দশক ধরে অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। 

 

বাংলাদেশ ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্সের সহ-সভাপতি বিশপ জের্ভাস রোজারিও সময় সাংবাদকে বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময় থেকেই এই দাবি উত্থাপিত হয়।

 

আরও পড়ুন: ধর্মান্ধতায় নয়, ধর্মীয় সহনশীলতায় বিশ্বাস করে বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ

 

তিনি বলেন,

পরবর্তীতে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর কাছেও একই দাবি জানানো হয়। আশ্বাস দেয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

 

রোজারিও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু তা বরাবরের মতোই ‘কথার আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ’ থেকেছে।

 

তিনি বলেন, ইস্টার, যা খ্রিস্টান ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এবং যিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানকে স্মরণ করে, সে দিন ছুটি না থাকায় খ্রিস্টানদের জন্য তা যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন শিক্ষাবিদসহ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাক্ষাৎ

 

‘সরকারি দায়িত্বের কারণে অনেক খ্রিস্টান চার্চে অংশ নিতে পারেন না। এতে শুধু বিশ্বাসীদের নয়, চার্চের কার্যক্রমও ব্যাহত হয়,’ তিনি বলেন।

 

তিনি এই দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি শুধু সুবিধার বিষয় নয়; এটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মর্যাদা ও স্বীকৃতির প্রশ্ন। 

 

সংগঠনের সভাপতি নির্মল রোজারিও সময় সাংবাদকে বলেন, ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া নাগরিক ও মৌলিক অধিকারের বিষয়। ‘অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় একাধিক সরকারি ছুটি ভোগ করে। খ্রিস্টানদের জন্য একটি অতিরিক্ত ছুটি দিলে তা সমান মর্যাদা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতিফলন হবে,’ তিনি বলেন।

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংলাপ, সংগঠন ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এই আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

 

অনেক সাধারণ খ্রিস্টানের কাছে বিষয়টি শুধু নীতিগত নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে ধর্মীয় বিশ্বাস ও পেশাগত দায়িত্বের ভারসাম্যের সঙ্গে জড়িত।

 

আরও পড়ুন: ভারতের ছয় রাজ্য নিয়ে খ্রিস্টানদের জন্য ‘ট্রাম্পল্যান্ড’ গঠনের ডাক

 

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ৪৪ বছর বয়সী মালা রিবেরু সময় সাংবাদকে বলেন, ইস্টার বিশ্বাসীদের জন্য গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে, কিন্তু সরকারি স্বীকৃতি না থাকায় তা প্রায়ই বাস্তব ও নৈতিক সংকট তৈরি করে।

 

তিনি বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব থাকলেও আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ছুটি না থাকায় আমাদের প্রায়ই কাজ ও ধর্মীয় পালন এই দুইয়ের মধ্যে বেছে নিতে হয়।’

 

রিবেরু বলেন, ইস্টার সানডেতে প্রায়ই পরীক্ষা বা অফিসিয়াল দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়, কারণ দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়।

 

মানববন্ধনে অংশ নেয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ড্রাইভার ৫১ বছর বয়সী সুজন নকরেক সময় সাংবাদকে বলেন, ছুটি না থাকায় তিনি ইস্টারে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন না।

 

তিনি বলেন,

মুসলমানদের জন্য যেমন ঈদ, তেমনি আমাদের জন্য ইস্টার আনন্দের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনে ছুটি না থাকায় আমরা পরিবারের সঙ্গে ঠিকমতো উদযাপন করতে পারি না, যা কষ্টের কারণ।

 

তিনি আরও বলেন, অনেক খ্রিস্টানের কাছে ইস্টার বড়দিনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর স্বীকৃতি না পাওয়া আরও বেদনাদায়ক।

 

‘সব ধর্মের প্রতি সমান সম্মান থাকা উচিত। ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলে তা ন্যায় ও সমতার প্রতিফলন হবে,’ তিনি বলেন।

 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ খ্রিস্টান লেখক ফোরামের ‘আর্শি’র বড়দিন সংখ্যা প্রকাশ

 

মানববন্ধনের অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার তাদের দাবি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতিশ্রুতি বাস্তব পদক্ষেপে পরিণত করবে।

 

চার্চ নেতারা জানান, তারা সংলাপের জন্য প্রস্তুত থাকলেও এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে।

 

বিশপ রোজারিও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে মূল্য দেয় এমন একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উচিত সব ধর্মীয় সম্প্রদায়কে সমান মর্যাদায় দেখা।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন