থামছেই না মব-সংস্কৃতি, সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও কেন নিয়ন্ত্রণহীন?

১৫ ঘন্টা আগে
দেশে থামছেই না মব-সংস্কৃতি। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর মব বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি মব-সন্ত্রাস। বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সময়ের মব-অপরাধের বিচার না হওয়া, উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেয়া এবং নানা সামাজিক-রাজনৈতিক কারণেই এখনও সংঘবদ্ধ এ অপরাধ মাথাচাড়া দিচ্ছে।

রাজনৈতিক সরকার গঠনের পর মন্ত্রীদের প্রতিশ্রুতি ও সংসদে দেয়া কঠোর ঘোষণার কারণে জনমনে আশা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া মব-সংস্কৃতি হয়তো এবার নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কুষ্টিয়ায় সংঘবদ্ধভাবে মাজারে হামলা চালিয়ে পীর হত্যা এবং শাহবাগে মারধরের মতো সাম্প্রতিক ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই সামনে এনেছে।

 

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার অন্তত ৮৮টি ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় অর্ধশত মানুষ নিহত এবং ৮০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত মাসে ২৫টি মব সহিংসতায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়।

 

এতে প্রশ্ন উঠছে, আবারও কি মাথাচাড়া দিচ্ছে মব-সংস্কৃতি? কিংবা কেনই বা এই সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না? মানবাধিকার কর্মী মো. নূর খান লিটন বলেন, সরকার নানারকম কথা বললেও এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আসতে পারে বাস্তবে এমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী, ছোট রাজনৈতিক দল এবং সমাজের কিছু দুষ্কৃতিকারী এই মব সন্ত্রাসকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছে।

 

আরও পড়ুন: মব কালচার আর অ্যালাউ করা হবে না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এই প্রবণতা শুরু হয়েছে, কিন্তু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। দেশে উগ্রবাদ কিছুটা মাথাচাড়া দিয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মব সংস্কৃতি রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। এতে শুধু সরকার নয়, নাগরিকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। আব্দুল কাইয়ুম আরও বলেন, কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। এডভান্স ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা যায়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

 

মো. নূর খান লিটন বলেন, মব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা নিয়ন্ত্রণে সরকার ও জনগণ উভয়েরই সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে উসকে দিচ্ছে, তাই এখনই সতর্ক না হলে সাধারণ মানুষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর মব সহিংসতায় দেশে ১৯৮ জন নিহত হন। এর আগের বছর ২০২৪ সালে নিহত হন ১২৮ জন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন