ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের ১৪তম দিন আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) আল কুদস দিবস উপলক্ষে ইরানজুড়ে বিশাল জনসমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরান ছাড়াও খোররামাবাদ, ইসফাহান, গোলেস্তান, ইয়াজদ, মাশহাদ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাহেদান শহরে বিপুল মানুষ পতাকা হাতে মিছিলে অংশ নেন।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং তার নিহত বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি দেখা যায়। এর মধ্যেই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, আজ দুপুরে তেহরানের একটি চত্বরে বড় একটি বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে প্রতিবাদকারীরা বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জমায়েত হয়েছিল। তবে বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: ‘মাত্র তো শুরু’, লেবাননে সেতু উড়িয়ে দিয়ে বললেন ইসরাইলি মন্ত্রী
প্রতিবেদন মতে, বিস্ফোরণের আগে ইসরাইল হামলার লক্ষ্যে ইরানি জনগণকে ওই এলাকা খালি করতে বলেছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, একজন নারী শত্রু বিমান হামলায় ছিন্নভিন্ন হওয়া ধাতুর টুকরোতে মারা গেছেন। তবে অন্যান্য কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে আল জাজিরা আরবি জানিয়েছে, তেহরানে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশস্থলের কাছাকাছি এলাকায় একটি বিমান হামলা হয়েছে। তবে হামলাটি ঠিক কোথায় হয়েছে বা এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
চলমান যুদ্ধের মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আগেই জনগণকে এতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই বিক্ষোভে সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। এছাড়া সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানিকেও দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: ‘শাহেদ’ ড্রোন ঠেকাতে ইউক্রেনের ৭ হাজার ইন্টারসেপ্টর চায় কাতার-আমিরাত
আল কুদস দিবস মূলত ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন এবং ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার পালিত হয়। ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এ দিবস ঘোষণার মাধ্যমে এর সূচনা করেন।
এরপর থেকে প্রতি বছর ইরান সরকার আল-কুদস দিবসে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সমাবেশ আয়োজন করে আসছে। জেরুজালেম শহরের আরবি নাম ‘আল-কুদস’, আর সেই নাম থেকেই দিবসটির নামকরণ করা হয়েছে।
]]>
৪ সপ্তাহ আগে
৭








Bengali (BD) ·
English (US) ·