পোস্টে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ লন্ডনে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করেন। তার ভাষায়, ‘আমরা গোপনে সাক্ষাৎ করেছিলাম। কারণ ছিল স্পষ্ট। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান নির্মম নির্যাতন সহ্য করেছিলেন এবং নির্বাসনে জীবনযাপন করছিলেন। আমিও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। আল জাজিরার সাথে কথা বলার জন্য আমাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল।’
তিনি জানান, ওই সময় তিনি লন্ডনে আল জাজিরার জন্য দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকার দিতে গিয়েছিলেন। লন্ডনের শার্ড ভবনের স্টুডিও বি-তে ‘আনস্ক্রিপটেড’ অনুষ্ঠানের দুটি পর্বের শুটিং হয়। এরপর ঢাকায় ফেরার কয়েক ঘণ্টা আগে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরের একটি হোটেলে তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়।
তিনি বলেন, ওই সময় তার সঙ্গে তার ভাগ্নি মৌলিও ছিল। মৌলি তারেক রহমানের কন্যা জাইমার সঙ্গে পরিচিত হয় এবং তারা আলাপে ডুবে যায়।
শহিদুল আলম বলেন, সেই সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল কঠিন। শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিলেন এবং বাংলাদেশের ওপর তার কর্তৃত্ব ছিল নিরঙ্কুশ।
শহিদুল আলম আরও বলেন, আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে আরও একবার শেখ হাসিনা সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তিনি। তার কথায়, ‘সাক্ষাৎকারে আমি আবারও তার শাসন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। এরপর আমি রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যেই দেশে ফিরে এসেছিলাম।’
আরও পড়ুন: দীপু দাসের বাড়িতে শহিদুল আলমসহ অধিকারকর্মীরা, আইনি সহায়তার আশ্বাস
শহিদুল আলম জানান, এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যান এবং নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
তিনি জানান, এরপর ছবি মেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র উৎসব আয়োজন করা হয়। জাইমা রহমান উৎসবটি দেখতে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন।
শহিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের আশা ছিল, তিনি তিনটি গ্যালারিই ঘুরে দেখবেন, ছাদের ওপর শিক্ষার্থীদের স্টলটিও ঘুরে দেখবেন। কিন্তু তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গল্পে এতটাই ডুবে গেলেন যে, সময় কোথা দিয়ে চলে গেল টেরই পাওয়া গেল না।’
আরও পড়ুন: শুধু ভোট দিলেই হবে না, কড়ায়-গন্ডায় ফলাফল বুঝে নিতে হবে: তারেক রহমান
শিল্পের প্রতি জাইমার অনুরাগের প্রশংসা করে এই আলোকচিত্রী বলেন, ‘অনেক বিষয়ের পাশাপাশি তার সঙ্গে সৃজনশীল অর্থনীতি, শিক্ষা নিয়ে কথা হয়, যেসব বিষয় আমার হৃদয়ের খুব কাছের। এটা এমন এক সময় যখন সংস্কৃতি অবরুদ্ধ, যখন নারীর অধিকার সবচেয়ে বেশি আঘাতের মুখে, তখন এই তীক্ষ্ণ ও প্রখর বুদ্ধির তরুণীকে শিল্পকলা নিয়ে এত গভীরভাবে যুক্ত হতে দেখা আমাকে আশাবাদী করেছে।’
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তরুণরা, শিল্পীরা এবং বিশেষ করে নারীরা। তাদের নেতৃত্বেই স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শহিদুল আলমের মতে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের জন্য জেনারেশন জেড বা তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিতে হবে, নইলে প্রকৃত রূপান্তর সম্ভব হবে না।
]]>
৪ সপ্তাহ আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·