তবে কী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমাতেই এতোদিন কাপড় ধুয়েছে রামুবাসী?

৪ সপ্তাহ আগে
কক্সবাজারের রামুর প্রত্যন্ত গ্রামে সন্ধান মিলেছে বোমা সদৃশ্য বস্তুর। তবে এই বোমার ওপর গেলো ১০ বছর যাবৎ চলে কাপড় ধোঁয়ার কাজ। পুলিশ বলছে, রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ০৮নং ওয়ার্ডের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকায় বোমাটি পাওয়া যায়। মূলত এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা। যা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, রামুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বড় বোমা পাওয়া গেছে। মূলত বোমাটি একটি পুকুরে ছিল। যা ১০ বছর আগে স্থানীয় কেউ পুকুর থেকে তুলে পাড়ে রেখেছিল। এই বোমাটিতে গেলো ১০ বছর ধরে স্থানীয়রা কাপড় ধোঁয়ার কাজও করেছে।

 

মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বোমার বিষয়টি পুলিশকে জানালে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এরপর বোমাটি নিরাপদ স্থানে রেখে চারপাশে ঘিরে রাখার পাশাপাশি নজরদারিতে রয়েছে। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে যায় এবং বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

 

আরও পড়ুন: মাদারীপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ

 

রামুর ইতিহাস গবেষক আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বোমা সদৃশ্য বস্তুটির দুটি ছবি শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বস্তুটিকে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি শেয়ার করে লেখেন- ২য় বিশ্বযুদ্ধের বোমা! এই বোমাটার উপর নাকি অনেকদিন যাবত মানুষ কাপড় কাচার কাজ করত! এটাতে এক্সপ্লোসিভ আছে কিনা পরীক্ষা করা দরকার। না থাকলে সংরক্ষণ করা উচিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে। এটাও তো রামুর ইতিহাসের অংশ।

 

ইতিহাস গবেষক আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া জানিয়েছেন- বোমা সদৃশ্য বস্তুটির বিষয় তিনি অনেক আগেই জেনেছিলেন। নিজের আগ্রহ থেকে তিনি এবং শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া সেটি দেখতে গিয়েছিলেন। তার ধারনা হয়তো এটি জাপানের তৈরি এবং বর্তমানে এটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের মতো তিনিও এটি দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা বলে ধারনা করেছেন।

 

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে ককটেল বিস্ফোরণের স্থান থেকে শতাধিক বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার

 

বস্তুটির আকার প্রস্ত গাসের সিলিন্ডারের মতো এবং দৈর্ঘ্য আরও বেশি। এদিকে বোমা সদৃশ্য বস্তুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন