তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইনের অধীনে গঠিত হয়েছিল তথ্য কমিশন। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কাছে থাকা তথ্য নাগরিকদের কাছে সহজলভ্য করা এবং তথ্য না পেলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
কিন্তু সরকার পরিবর্তনের প্রায় দুই বছর হলেও এখনও নতুন করে গঠিত হয়নি তথ্য কমিশন। এতে নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার-তথ্য পাওয়ার পথ এখন কার্যত অনিশ্চয়তায়। পাশাপাশি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় কমিশনে জমা পড়ছে শত শত অভিযোগ।
তথ্য কমিশন না থাকায় সরকারি দফতর থেকে তথ্য না পেলে নাগরিকদের প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে তৈরি হয়েছে শূন্যতা।
এদিকে সরকার বলছে, কমিশন গঠনের প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়া শেষ। প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের বিচারক চূড়ান্ত হলে শিগগিরই অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতির কাছে। এর পরই গঠিত হবে কমিশন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী আমাদের প্রথমে বাছাই কমিটি করতে হবে। কমিটিতে জাতীয় সংসদের দুজন প্রতিনিধি থাকবেন। প্রধান বিচারপতি কর্তৃক বিচারবিভাগের একজন প্রতিনিধি থাকবেন এবং গণমাধ্যমের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে নাম পেলে বাছাই কমিটি হবে। বাছাই কমিটি হলেই তথ্য কমিশন গঠন করার কাজ চূড়ান্ত হবে।
আরও পড়ুন: তথ্য কমিশনের সচিব হলেন রকিবুল বারী
তথ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার এমন মন্তব্য করে প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন, কমিশন না থাকায় রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের তথ্য পাওয়ার অধিকার ব্যাহত হচ্ছে। আর কমিশন গঠনের পেছনে বিলম্বের কারণ হিসেবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কমিশনের ওপর অনাস্থাকেও কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
সোহরাব হাসান বলেন, কমিশনের কার্যক্রম তো বন্ধ থাকতে পারে ন। ওই সরকারের নিয়োগ করা কমিশনের ওপর পরবর্তী সরকারের আস্থা না থাকার কারণে এই কমিশন ভেঙে দিতে হতে পারে।
তথ্য কমিশন পুনর্গঠনে রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে দক্ষ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।
সোহরাব হাসান আরও বলেন, প্রশাসন এবং রাজনীতিকে আমরা গুলিয়ে ফেলি। যারা ক্ষমতায় আসেন তারা তাদের পছন্দের লোক চান। কিন্তু সেটা হওয়া উচিত না। আইনের অধীনে পরিচালিত হবে। সেখানে কারোর পছন্দ অপছন্দে হওয়া উচিত নয়। নতুন তথ্য কমিশন গঠিত হবে এবং সেই কমিশনে যেন বিতর্কিত ও দলীয় লোক না থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্য কমিশন কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়-এটি রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকারের অন্যতম রক্ষাকবচ। তাই দ্রুত কমিশন পুনর্গঠনের দাবি এখন আরও জোরালো।

৫ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·