রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস গ্রামের জালাল খন্দকারের মেয়ে নাজমিন। জুবায়ের হোসেন নামে ৪ মাস বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে তার।
নিহতের বাবা দিনমজুর জালাল খন্দকার জানান, ১ সপ্তাহ আগে নাজমিনকে ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের ৮ম তলায় ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিডনি, হার্টের সমস্যাসহ নানান শারীরিক সমস্যা ছিল তার। এর আগেও আড়াই মাস হাসপাতালটিতে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে গিয়েছিল।
রোববার সন্ধ্যায় বাবা জালাল খন্দকার খাবার পানি সংগ্রহের জন্য ওয়ার্ড থেকে নিচে নামেন। এর কিছুক্ষণ পর নাজমিন তার মা শিল্পী বেগমকেও পানি আনতে নিচে পাঠিয়ে দেয়। বাবা পানি নিয়ে ভবনটিতে ওঠার পথে নিচে মানুষের জটলা দেখতে পান। এগিয়ে গিয়ে দেখেন, তার মেয়েই মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখন জানতে পারেন, ভবনটির উপর থেকে কিছুক্ষণ আগেই লাফিয়ে নিচে পড়েছেন নাজমিন।
আরও পড়ুন: প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা কলেজছাত্রীর
তিনি আরও জানান, ৪-৫ বছর আগে পাশের গ্রামের রায়হান নামে এক যুবকের সাথে বিয়ে হয় নাজমিনের। বিয়ের কিছুদিন পর অন্তঃসত্ত্বা হলে ৭ মাস চলাকালে স্বামী ও তার জা মিলে জোরপূর্বক তার বাচ্চা নষ্ট করে ফেলে। তখন থেকেই শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় নাজমিনের। এযাবৎ বাবা নিজে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে বিভিন্ন জায়গায় তার চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু, চিকিৎসার কোন খরচ দিত না স্বামী রায়হান। এর উপর আবার নাজমিনকে মারধরও করত। এসব কারণেই নাজমিন প্রায়ই হতাশাজনক কথাবার্তা বলত। আর বাঁচবে না বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলত।
নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, নাজমিন মেডিসিন বিভাগে ভর্তি থাকা রোগী। ৮ম তলা থেকে লাফ দিয়ে নিচে পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের উপর পড়ে সে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। হাসপাতাল পরিচালককে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। এছাড়া শাহবাগ থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে।

৪ সপ্তাহ আগে
৬







Bengali (BD) ·
English (US) ·