‘ঢাকায় মশার দাপট চরমে, বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়’

১ ঘন্টা আগে
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে।

শনিবার (১৩ মার্চ) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। এক নজরে জেনে নিন প্রতিবেদন।

 

ঢাকায় মশার দাপট চরমে, বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়- এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের শেষ পাতায় প্রাকাশি খবরের শিরোনাম।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা। গুলশান পুলিশ প্লাজার সামনে ফুটপাতে চা পান করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী খাইরুল ইসলাম জীবন। কিছুক্ষণ পরই তিনি বিরক্ত হয়ে হাত-পা নাড়াতে থাকেন। পাশের সহকর্মীকে বলেন, ‘চা স্টল থেকে বাসা —কোথাও বসে স্বস্তি নেই। চারদিকে মশার ভয়ানক জ্বালাতন।’

 

 

একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দিনে কিছুটা সহনীয় হলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ। ঘরের বাইরে এক মিনিট দাঁড়ালেই শত শত মশা ঘিরে ধরে। ঘরের ভেতরেও মশারি ছাড়া থাকা কঠিন। অ্যারোসল দিলে কিছুক্ষণ কমে, পরে আবার আগের মতো হয়। একেবারে জেরবার জীবন!’

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে প্রকৃতিতে প্রায় ৯২ শতাংশ মশাই কিউলেক্স প্রজাতির। শুধু উত্তরা নয়, রাজধানীজুড়ে মশার উপদ্রব বেড়েছে।

 

১০ সচিব ও ৫ ডিসির পদ শূন্য: প্রশাসনে বড় ধরনের স্থবিরতা- এই শিরোনামের প্রতিবেদনটি কালের কণ্ঠ পাত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর গত ২১ জানুয়ারি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২৮ জানুয়ারি তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলেও আজও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাটিতে কোনো ডিজি নিয়োগ দেয়া হয়নি। তারও আগে থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবুর রহমান অন্তত দুমাস আগে ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্র গেলেও সময়মতো ফিরে আসেননি।

 

 

তিনি ছুটি বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ে, যা প্রক্রিয়াধীন। অথচ প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে টনে টনে গম আমদানি করছে। শুধু খাদ্য অধিদপ্তরই নয়, এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্তত ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবের পদ খালি রয়েছে। পাশাপাশি মাঠপ্রশাসনের অন্তত পাঁচটি জেলার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পদও খালি।

 

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ (এপিডি) অনেক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও সংস্থার পদও খালি রয়েছে। এতে প্রশাসনে চলছে এক ধরনের স্থবিরতা। গুরুত্বপূর্ণ এসব দপ্তরে পদায়ন পেতে দৌড়ঝাঁপও করছেন অনেকে।

 

মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর শ্রমবাজার, যুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তা- এটি প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতার লিড শিরোনাম।

 

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশে কর্মসংস্থান মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী যান সৌদি আরবে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফ্লাইট অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। প্রবাসীরা ঝুঁকিতে আছেন, কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ছুটিতে দেশে বেড়াতে এসে কেউ কেউ আটকাও পড়েছেন। অনেক নতুন কর্মী যেতে পারছেন না। সব মিলিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছে বিদেশের কর্মসংস্থান।

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে গত বছরের তুলনায় এই সময়ে কাজের জন্য বিদেশ যাওয়া কমেছে। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১০ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশে যেতে ছাড়পত্র নেওয়া কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

 

সংসদের প্রথম অধিবেশন: বিরোধী দলের প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান নিয়ে উষ্মা- এই শিরোনামের প্রতিবেদনটি যুগান্তরের পাত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে।

 

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়ে বিরোধী দলের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, স্লোগান ও ওয়াকআউটের ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউটসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদের ভাষা রয়েছে। তবে প্রথম অধিবেশনেই যেভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দেওয়া হয়েছে তা দৃষ্টিকটু ছিল। অবশ্য প্রতিবাদ সহিষ্ণু হওয়া ইতিবাচক বলে মনে করেন তারা।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও অন্যান্য কমিটি নির্বিঘ্নভাবে গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকা ইতিবাচক ছিল। তবে বৈশ্বিক সংকট বিবেচনায় সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি। জাতীয় ইস্যুতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে সংসদ কার্যকর হবে না এবং দেশের যে অর্থনৈতিক সংকট চলছে তা আরও বাড়বে বলে তারা মনে করেন। তাদের মতে, এর সুযোগ নিতে পারে ষড়যন্ত্রকারীরা।

 

শনিবার যুগান্তরকে দেওয়া ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক এবং সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার এসব মতামত ব্যক্ত করেন।

 

ঈদযাত্রায় ভোগাতে পারে মহাসড়কের ২০৭ যানজট ও ২৮৫ দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান- এটি বণিক বার্তা পত্রিকার প্রথম পাতার প্রধান শিরোনাম।

 

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করা লাখো মানুষের প্রধান ভরসা দেশের মহাসড়কগুলো।

 

তবে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় যানজট ও দুর্ঘটনা। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য বলছে, দেশের মহাসড়কগুলোয় এখনো শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে, যেগুলো ঈদযাত্রাকে কঠিন করে তুলতে পারে।

 

দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে। প্রায় ২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ এ পথেই রয়েছে ৪৫টি যানজটপ্রবণ স্থান, যেখানে ঈদ মৌসুমে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা থাকে। শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কই নয়, সারা দেশের মহাসড়কে মোট ২০৭টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন মহাসড়কে রয়েছে ২৮৫টি অধিক দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান; যেখানে অতিরিক্ত গতি, সড়কের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বা অনিয়মিত যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

 

জ্বালানি সংকটে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়ার শঙ্কা- সমকাল পাত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত প্রধান খবর এটি।

 

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নীলাচল পরিবহনের বাসের সংখ্যা ৩৫০টি। এর ৯৫টি চলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের মতো দূরপাল্লার রুটে। গত বৃহস্পতিবার ৩০টি বাস বন্ধ ছিল তেল সংকটে। কোম্পানিটির গাবতলী-নরসিংদী রুটের ৪০ বাসের ১৬টি বন্ধ ছিল ফিলিং স্টেশনে (তেলের পাম্প) যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে জ্বালানি না পেয়ে। নীলাচলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাবউদ্দিন মাসুদ এই তথ্য জানিয়ে সমকালকে বলেছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নিশ্চিত।

 

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আসা-যাওয়ায় ৩৫০ লিটার ডিজেল লাগে। পথে তেল কেনায় যাতে সময় নষ্ট না হয়, সেজন্য আগে বাসের ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে ৪০০ লিটার ডিজেল একসঙ্গে ভরা হতো। কিন্তু সংকট শুরুর পর একসঙ্গে ১০০ লিটারের বেশি ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। এই তেলে কক্সবাজার যাওয়া যায় না। পথে আবার তেল নিতে হয়।

 

তিনি আরও বলেন, পাম্পে ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে তেল নিতে বাড়তি দুই-তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। এ কারণে শুধু যাত্রীদের ভোগান্তি নয়, বাসের শিডিউলও এলোমেলো হচ্ছে। ঈদে গাড়ির চাপ বাড়বে। তখন যানজটও বাড়বে। এর সঙ্গে তেলের জন্য লাইন ধরার সময় যুক্ত হলে, ঈদযাত্রায় ব্যাপক দুর্ভোগ হবে।

 

একই কথা বলছেন অন্য মালিকরাও। তাদের ভাষ্য, সরকারের রেশনিং পদ্ধতি চালুর কারণে ভোগান্তি বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেলে ঈদে অচলাবস্থা তৈরি হবে। অধিকাংশ বাস ঈদযাত্রার আগাম টিকিট, তেলের বর্তমান দাম অনুযায়ী বিক্রি করেছে। এই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়লে, লোকসানও বাড়বে। যদিও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মালিকদের আশ্বস্ত করেছেন, তেলের দাম বাড়বে না। রোববার থেকে তেলের জোগান বাড়বে। সংকট থাকবে না।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন