ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাতায়তকারীদের ‘দুঃখ’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড মোড়

৪ সপ্তাহ আগে
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন ১২ কিলোমিটার ৬ লেন মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্তর ও বিশ্বরোড মোড়ে নাজুক সড়কে প্রায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকছে। এর মধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অবৈধ অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলো যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশংঙ্কা করছেন পরিবহন যাত্রীসহ চালকরা।

পরিবহন ও সড়ক সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের ওপর দিয়ে চলাচলরত চার জেলা বিশেষ করে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকলাখ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা রাজধানী ঢাকার সাথে চলাচল করে। রাজধানী ঢাকার সাথে চলাচল করতে গিয়ে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ গোল চত্তর ও বিশ্বরোড গোলচত্তর অংশ অতিক্রম করতে হয়। এই দুটি গোলচত্তরে মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় প্রায় প্রতিদিনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কবলে পরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালক যাত্রীরা। 

 

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিবহন যাত্রী ও চালকেরা। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে মহাসড়কটিতে যানবাহনের চাপ কয়েক গুন বাড়বে। ফলে মহাসড়কটিতে তীব্র যানজটের পাশাপাশি যাত্রী ভোগান্তি আশংঙ্কা করছেন পরিবহন যাত্রীসহ চালকেরা।

 

মহাসড়কে দূরপাল্লার ট্রাক চালক মো. মোজাম্মেল বলেন, এই সড়ক দিয়ে যখন গাড়ি নিয়ে আসি তখন আশুগঞ্জ গোলচত্তর এবং বিশ্বরোডের কথা মনে পড়লে গায়ে যেন জ্বর চলে আসে। সড়কটির এই নাজুক অবস্থান থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। তিনি আরো বলেন, মহাড়কের দুই পাশে বিভিন্ন স্থানে সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ভিভাটেক এবং ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে। এসব ট্যান্ড গুলো দুর্ঘটনার পাশাপাশি এলোমেলো ভাবে চলাচল করায় যানজটের মাত্রা বাড়ছে।

 

আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা

 

পিকআপভ্যান চালক মো. আফসার উদ্দিন জানান, প্রায়শই সড়কটিতে যানজট লেগে থাকে, এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কেই কেটে যায় তাদের।

 

আসন্ন ঈদ যাত্রায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলে ভোগান্তির মাত্রা আরো বাড়বে। সেই মহাসড়ক থেকে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডগুলো দ্রুত সরানো না হলে যানজটের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে মনে করেন পরিবহন চালক আফসার উদ্দিন।

 

ঢাকা থেকে সিলেটগামী বাস যাত্রী রমিজ আলী বলেন, ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত তেমন কোনো সমস্যা নেই। একমাত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে যত ঝামেলা। এখানে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ আছে বলে মনে হয় না। যদি প্রসাশন হস্তক্ষেপ করতো তাহলে এমন যানজট সৃষ্টি হতো না।

 

এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার দুইলেন থেকে চার লেনের মহাড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকে অনুমোদন হয়। পরে নানা সমীক্ষা যাচাই-বাছাই শেষে গত ২০২০ সালের মার্চ মাসে ৩টি প্যাকেজে ৫১ কিলোমিটার মহাসড়কের কাজ শুরু করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। তবে কাজটি শুরুতে কয়েক দফা হোচট খায়। এর মধ্যে করোনা মহামারি, বালু সংকট, ভূমি অধিগ্রহণ, গ্যাস লাইন, বিদ্যুৎলাইন ও পানির লাইন অপসারণে সময় ক্ষেপন হয়।

 

পরবর্তী ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লবের পর ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোক ভয়ে দেশত্যাগ করায় আবারো থমকে যায় আরো অন্তত ৬ মাস। জোরাতালি দিয়ে চারলেন মহাসড়কটির একপাশ নির্মাণ করতে  কেটে যায় ৮ বছর। এর মধ্যে গত ২০২৫ সালে ৩১ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়৷ প্রকল্পের অগ্রগতি হয় মাত্র ৬০ ভাগ। পরে আরো সময় বাড়িয়ে ২০২৭ সালে জুনে মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করার সময় নির্ধারন করা হয়।

 

এদিকে ৩টি প্যাকেজে মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যায় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ধরখার থেকে আখাউড়া স্থল বন্দর পর্যন্ত ৩নং প্যাকেজটি বাতিল করা হয়। যার কারণে প্রকল্প থেকে ৬৫৪ কোটি টাকা কমে যায়। বর্তমানে সংশোধিত ২টি প্যাকেজে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা।

 

নির্মাণাধীন আশুগঞ্জ-ধরখার ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত নির্মাণ সামগ্রী রয়েছে। কাজের গতিও পুরোদমে চলছে। কোনো সমস্যা নেই। তবে আশুগঞ্জ গোল চত্তর ও বিশ্বরোড গোলচত্তর ১২ কিলোমিটার অংশের দুটি স্পট যানজটের জন্য হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত। মহাসড়কের এই অংশটি নির্মাণাধীন ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত ২১০ কিলোমিটার ৬ লেন সড়কের সাথে মিল রেখে ৪ লেন থেকে ৬ লেনে বর্ধিত করা হচ্ছে। এর আগে এই অংশটুকু ২লেন থেকে ৪ লেনে উন্নিত করণের কাজ চলছিল।

 

আরও পড়ুন: যানজট কমাতে নির্মিত ফ্লাইওভারই এখন রাজশাহীর গলার কাঁটা

 

তবে ঈদ যাত্রায় যেন ভোগান্তি সৃস্টি না হয় সেই লক্ষ্যে নির্মাণাধীন ৬ লেন মহাসড়কটির আশুগঞ্জ গোল চত্তর ও বিশ্বরোড মোড়ে সড়কের উভয় অংশের দুটি লেনে অস্থায়ী ডাইভারশন সড়ক নির্মাণ করে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আগামী ১৬ মার্চ এই লেন গুলো চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আশা করা যায় নির্বিঘ্নে ঈদ যাত্রা করতে পারবে এই মহাসড়কে যাতায়তরত পরিবহন যাত্রী ও চালকেরা।

 

এদিকে মহাসড়কে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঈদ যাত্রাকে নির্বিঘ্নে করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত লোকবল অর্থাৎ ৩৮জন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আরো ১৮জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য পেয়েছেন। একই সাথে পেয়েছেন একটি উদ্ধারকারী যান (রেকার)। তিনি আশা করছেন, ভোগান্তি ছাড়াই মহাসড়কে ঈদযাত্রাকে স্বাভাবিক রাখতে পারবেন।

 

উল্লেখ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটির উপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০জেলার অন্তত ২৫ হাজার ছোটবড় যানবাহন চলাচল করছে। ঈদ যাত্রা এ সংখ্যা আরো কয়েকগুন বাড়তে পারে বলে ধর্মনগর হচ্ছে।

 

 

 

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন