ডোবা থেকে বেডশিট মোড়ানো নারীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

১৬ ঘন্টা আগে
হত্যার পর মাথাবিহীন দেহ বেডশিট মুড়িয়ে ফেলে দেয়া হয় ময়লা-আবর্জনার ডোবায়। পরে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় সন্ধান পায় মরদেহের। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করলেও বেডশিট দেখে নারীর মরদেহ শনাক্ত করে স্বজনরা। নিহত নারীর নাম শাহেদা আক্তার মুন্নী। স্বজনদের দাবি, স্ত্রীকে হত্যার পর পালিয়েছে স্বামী। তবে এখনও নিহত নারীর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে কক্সবাজার সদরের জানারঘোনা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সন্তান হারানো এক মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ। নিজ সন্তানের নিথর দেহ দেখে কান্না কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। মস্তকবিহীন সেই মরদেহ; তবুও একটি মাত্র বেডশিটের পরিচয়ে, হৃদয়ের টানে, মা ঠিকই চিনে নিয়েছেন তার মেয়েকে।


স্বজনদের দাবি অনুযায়ী, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাহেদা আক্তার মুন্নীর সঙ্গে সাইফুল ইসলাম তারেকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা চট্টগ্রামে বসবাস শুরু করেন। তবে কয়েক মাস আগে তারা কক্সবাজারে ফিরে এসে ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকেন।


স্বজনরা জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে সাইফুল ইসলাম তারেক দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয়। এই পারিবারিক কলহের জের ধরেই সাইফুল ইসলাম তারেক তার স্ত্রী শাহেদা আক্তার মুন্নীকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।


নিহত মুন্নীর ছোট ভাই মোহাম্মদ হৃদয় বলেন, হত্যার আগে আমার বোনকে অনেক মারধর করে তার স্বামী। তারপর আর কোনো খবর পায়নি তার।


মুন্নীর মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘যারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। তারাই আবার হাত কেটেছে, গলা কেটেছে বলে জানিয়েছে। আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার চাই।’


আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজ শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার


এদিকে, ভাড়া বাসার পাশের ময়লা-আবর্জনার ডোবায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সেখানে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে ডোবা ও আশপাশের ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালালেও নিহত নারীর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করতে পারেনি।


কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার খোকন কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘পুলিশে খবর দেয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে আসি। সেখানে ঝোপ-ঝাড়ে দীর্ঘসময় মাথা খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু পায়নি।’


কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক মো. ছমিউদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। মরদেহটি বেডশিটে মোড়ানো ছিল। এটি অর্ধগলিত এবং মাথা ও হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন ছিল। বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’


অন্যদিকে, সাইফুল ইসলাম তারেক ও শাহেদা আক্তার মুন্নী দম্পতির একটি চার বছর বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তারেক পলাতক রয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন