ডিএনসিসি সম্প্রসারণের এক দশকেও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি বর্ধিত ওয়ার্ডগুলো

৬ দিন আগে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আয়তন প্রায় এক দশক আগে দ্বিগুণেরও বেশি করা হয়। ২০১৭ সালে যুক্ত হয় নতুন ১৮টি ওয়ার্ড। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সম্প্রসারণ কি সত্যিই উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত হতে পেরেছে? রাজধানীর ঝলমলে গুলশান-বনানীর ঠিক বিপরীতেই এখনো এমন কিছু জনপদ রয়েছে, যেখানে শহরের চিহ্ন নেই; বরং অন্ধকার আর অবহেলায় সময় যেন থমকে আছে।

গুলশান-বনানী এলাকাকে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, ঝকঝকে সড়ক, আধুনিক ড্রেনেজ ও নাগরিক সুবিধার কারণে অনেকেই ‘ঈশ্বরের ভদ্রপল্লী’ হিসেবে দেখেন। কিন্তু এই চিত্রের ঠিক কয়েক কিলোমিটার দূরেই ডিএনসিসির বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোতে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।

 

এক দশক আগে আশায় বুক বেঁধে ১৮টি ওয়ার্ড ডিএনসিসির সঙ্গে যুক্ত হয়। ২০১৭ সালে ৮টি ইউনিয়ন ভেঙে তৈরি হওয়া ৩৭ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের কাছে এখন ‘সিটি করপোরেশন’ শব্দটি যেন কেবল বাড়তি ট্যাক্সের বোঝা। নাগরিক সেবার প্রত্যাশা থাকলেও গত এক দশকে তারা পেয়েছেন মূলত উন্নয়ন বঞ্চনা।

 

তুরাগ থানাধীন ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে বেহাল সড়ক ও নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা বলেন, সিটির মধ্যে এমন রাস্তা আছে এটা আশপাশের মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। হাঁটতে গেলে পড়ে গিয়ে আঘাত লাগে, অনেকে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে পারে না। সরকারকে দ্রুত এই রাস্তা ঠিক করে দিতে হবে।

 

আরও পড়ুন: ঢাকা শহরের একেক এলাকায় একেক তাপমাত্রা, পার্থক্য ৫ ডিগ্রিরও বেশি!

 

অন্যদিকে উত্তরখানের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্র আরও করুণ। মেঠোপথ দিয়ে চলাচল করতে হয়, আর পথে পথে দেখা যায় ময়লার ভাগাড়। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ট্যাক্স দিচ্ছি, কিন্তু কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। অসুস্থ রোগীকে খাটিয়ায় করে হাসপাতালে নিতে হয়, রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ।

 

প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বাস্তব উন্নয়ন চান এই বর্ধিত সিটির বাসিন্দারা। তবে ডিএনসিসির নথি অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা দূর করতে সড়ক, খাল ও নর্দমা উন্নয়নে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশ। কিন্তু এই প্রকল্পে এখনো উপেক্ষিত রয়েছে ৫২ নম্বর ওয়ার্ড।

 

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেয়া হবে। এখনো লিখিতভাবে অভিযোগ পাইনি, তবে আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি দেখব।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন