সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে তার বিরুদ্ধে বরগুনা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন পাথরঘাটা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা এলাকার আফরোজ নামে এক ব্যক্তি।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বরগুনা-২ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী কার্যক্রমে জামায়াতের বরগুনা জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শামীম আহসান নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পথসভা ও জনসভায় অংশগ্রহণ করেন।
শামীম আহসান একইসঙ্গে এমপিওভুক্ত কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন প্রধান শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন, যা প্রচলিত নির্বাচনী আচরণবিধি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিধি-নিষেধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন: ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াতি রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ: নাছির উদ্দীন
গত ২৪ জানুয়ারি রাতে পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালি এলাকায় বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভা ছিল। সেখানে শামীম আহসান উপস্থিত থেকে উচ্ছৃঙ্খল, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য দেন। তিনি তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডাকসু সম্পর্কে বলেন, ‘ডাকসু একসময় মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা ছিল। ছাত্রশিবির নির্বাচিত হওয়ার পর পরিবর্তন করতে সফল হয়েছে।’
এ ধরনের বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সারা বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার এ ধরনের বক্তব্যে সারা বাংলাদেশে নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বিনষ্ট করে। ইতিপূর্বে বরগুনা-২ আসনে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে অভিযোগ নম্বর ৩/২০২৬ দায়ের করা হয়। এরপর নির্বাচনী অনুষ্ঠান ও বিচারিক কমিটি বরগুনা-২ এর বিজ্ঞ-বিচারক শেখ ফারহান নাদীম, সিভিল জজ বরিশাল গত ২২ জানুয়ারি অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর মো. শামীম আহসানকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেয়।
আরও পড়ুন: ‘ডাকসু মাদকের আড্ডা-বেশ্যাখানা ছিল’, জামায়াত নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদ ঢাবির
কিন্তু এই শামীম আহসান বরগুনা-২ এর নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত নির্বাচনী কার্যক্রম করে আসছেন। তিনি পুনরায় গত ২৪ জানুয়ারি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালি এলাকায় জামায়েত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের উপস্থিতিতে এবং তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ও প্ররোচনায় ডাকসু নিয়ে নির্বাচনী জনসভায় এ মানহানিকর বক্তব্য দেন।
শামীম আহসান নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি ১৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন। নির্বাচনী জনসভায় এমপিওভুক্ত প্রধান শিক্ষক হয়েও অংশগ্রহণ করে ২০ এর ‘খ’ বিধি অনুযায়ী অপরাধ করেছেন যা দণ্ডনীয় অপরাধ। এমতাবস্থায় শামীম আহসানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তাকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদানের সদয় নির্দেশ দেয়া হোক।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বরগুনা-২ জামায়াত ইসলামী প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের প্রার্থিতা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায় বাতিল করা হোক। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা, নিরপেক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পাবে।
আরও পড়ুন: ডাকসু নিয়ে বরগুনার জামায়াত নেতার কটূক্তি
এ অভিযোগপত্রের অনুলিপি দেয়া হয়েছে শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বরিশাল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক, বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার এবং বরগুনা জেলা নির্বাচন অফিসারকে।
এর আগে রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ডাকসু নিয়ে মো. শামীম আহসানের একটি অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। এরপর সারা দেশে এই বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। তার বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এবং শামীম আহসানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: একটি দলকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ তুলছেন জামায়াত নেতা মুজিবুর
বক্তব্য প্রকাশের পর ক্ষমা প্রার্থনা করেন জামায়াত নেতা ও প্রধান শিক্ষক মো. শামীম আহসান। তিনি গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০২৪ সালের আগে ডাকসু ছিল নিষিদ্ধ-ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের দখলে। ছাত্রলীগের পলাতক সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ও পলাতক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ২০১৯ সালে ডাকসুকে কুক্ষিগত করেছিলেন। এই পরিচয়কে ব্যবহার করে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদক, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির আখড়া হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। তা ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা যেমন: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ককে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন তারা; যা বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় উঠে এসেছে। এগুলো কারও অজানা কথা নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যে মূলত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সেই সব অপকর্মের কথাই বুঝিয়েছি। জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৪ সালের ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ও সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়ে ছাত্রশিবিরের প্যানেল নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে ডাকসু চাঁদাবাজ, মাদককারবারি, সিট বাণিজ্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই প্রেক্ষিতে আমি বুঝিয়েছি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ডাকসুতে যে কালিমা লাগিয়েছিল ছাত্রশিবির তা মুছে দিতে সক্ষম হয়েছে।’

৩ সপ্তাহ আগে
৪







Bengali (BD) ·
English (US) ·