চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তৈরি পোশাক খাতে ২৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয়ে একক দেশ হিসেবে ১৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পণ্য রফতানি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু হঠাৎ করে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশি পণ্যের উপর ৩৭ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করায় সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে তৈরি পোশাক খাত।
শুল্কমুক্ত পণ্য প্রবেশের সুবিধা নিয়ে যেখানে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তার পরিবর্তে দ্বিগুণের বেশি শুল্কারোপ ভাবিয়ে তুলেছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত শুল্কের বিষয়ে আলোচনায় যেতে হবে। শুধু আলোচনায় গেলেই হবে না, তাদেরকে আগের নিয়ম বা সম্ভব হলে শুল্ক আরও কমানো যায় কিনা তা নিয়ে রাজি করাতে হবে। পাশাপাশি খুঁজতে হবে বিকল্প বাজারও।
আরও পড়ুন: মার্কিন পণ্যে শুল্ক পর্যালোচনা চলছে: প্রেস সচিব
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও গত ৬ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশে ১১ দশমিক ৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যুক্তরাজ্যে ২ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অপ্রচলিত বাজার হিসেবে পরিচিত জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, আরব আমিরাত, মালেয়শিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি হয়েছে ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাজার হলেও নতুন বাজারেও বাংলাদেশ বড় ভূমিকা রাখতে পারছে। তবে নতুন বাজারগুলোতে রফতানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজিএমইএ'র সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, শিপিং লাইন্স, কাস্টমস, বন্দর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সরকারের পক্ষ থেকে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলো নিরসন করতে হবে। এটি করতে পারলে ব্যয় অনেক সাশ্রয় করা যাবে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে বাংলাদেশ ২৬ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করে; যা আগের অর্থবছরের এই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদিও ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৩৮ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হলেও পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই বিলিয়ন কমে ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: এশিয়ার কোন দেশের ওপর কত শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প?
এ অবস্থায় রফতানি আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুল্কহার কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির কোনো বিকল্প দেখছেন না ব্যবসায়ী নেতারা। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তাদের আগের পর্যায়ে শুল্ক রাখার প্রস্তাব দিয়ে আমাদের শুল্ক হার পর্যালোচনা করতে হবে। এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করতে হবে, যাতে দুই দেশের পণ্য বিনিময় স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে।
উল্লেখ্য, দেশের আটটি ইপিজেডের ৬০০ গার্মেন্টস কারখানার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা-বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং গাজীপুর ও নারায়নগঞ্জে স্বতন্ত্র গামেন্টস রয়েছে ২ হাজার ৫৬৪টি। প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক সরাসরি এসব কারখানায় কাজ করছেন।
]]>