প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমান বিশ্বের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পূর্বপুরুষ ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর এক স্কটিশ অভিজাত পরিবারের সদস্য। সেই হিসেবে ট্রাম্প ও রাজা চার্লস পরস্পরের জ্ঞাতি ভাই। খবরটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে যখন ব্রিটিশ রাজা যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। এদিকে এই খবরে ট্রাম্প বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
ডেইলি মেইল বলেছে, বিষয়টি তারা ব্যাপক গবেষণা করেছে। তাদের দাবি, গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাম্প ও রাজা চার্লসের অভিন্ন পূর্বপুরুষ হচ্ছেন তৃতীয় আর্ল অব লেনক্স, যিনি স্কটল্যান্ডের রাজা জেমস দ্বিতীয়ের প্রপৌত্র ছিলেন। এই সূত্রে তারা ১৫তম কাজিন বা দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই।
প্রতিবেদন মতে, এই অভিন্ন পূর্বপুরুষের ইতিহাস সংঘাত ও ষড়যন্ত্রে পরিপূর্ণ। লর্ড লেনক্স শিশু রাজা জেমস পঞ্চমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক তীব্র ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন ও ১৫২৬ সালে লিনলিথগো ব্রিজের যুদ্ধে পরাজিত ও বন্দি হন। এরপর তিনি বাস্টার্ড অব আরান নামে পরিচিত এক প্রতিদ্বন্দ্বী জমিদারের হাতে তিনি নিহত হন। তার মৃত্যু স্কটল্যান্ডের রাজকীয় ইতিহাসের এক উত্তাল অধ্যায়ের অংশ হয়ে ওঠে।
সেখান থেকে বংশধারাটি বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। আর্লের পুত্র লর্ড ডার্নলির পিতা হন, যিনি স্কটল্যান্ডের রানি মেরিকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের পুত্র পরে ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস হন, যা এই বংশধারাকে সরাসরি স্টুয়ার্ট রাজবংশ এবং অবশেষে আধুনিক উইন্ডসর হাউসের সাথে যুক্ত করে।
আরও পড়ুন: নৈশভোজে ট্রাম্পকে ব্রিটিশ রাজার বিদ্রুপ / ব্রিটিশরা না থাকলে আমেরিকানরা এখন ফরাসি ভাষায় কথা বলত
বংশলতির আরেকটি শাখা স্কটিশ অভিজাতদের মধ্যদিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে। আর্লের কন্যা লেডি হেলেন সাদারল্যান্ড পরিবারে বিবাহ করেন এবং তাদের বংশধররা পরে ক্ল্যান ম্যাকের সাথে যুক্ত হন। তাদের একজন উত্তরাধিকারী ডোনাল্ড ম্যাকে একজন কট্টর রাজতন্ত্রবাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যিনি ইংরেজ গৃহযুদ্ধের সময় রাজা প্রথম চার্লসকে সমর্থন করেছিলেন।
কয়েক প্রজন্ম পরে এই বংশধারা ম্যাকলিওড পরিবারের মধ্যদিয়ে মেরি অ্যান ম্যাকলিওডের কাছে পৌঁছায়, যিনি ১৯৩০ সালে স্কটল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তিনি পরে ফ্রেড ট্রাম্পকে বিয়ে করেন এবং ১৯৪৬ সালে তাদের পুত্র ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম হয়। সেখান থেকেই ট্রাম্প পরিবারের গল্পের আমেরিকান অধ্যায় শুরু।
ট্রাম্পের সরস প্রতিক্রিয়া
ডেইলি মেইলের এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ওয়াও, এটা তো দারুণ খবর। আমি সবসময় বাকিংহাম প্যালেসে থাকতে চেয়েছি!!! আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজা ও রানির সাথে এই বিষয়ে কথা বলব!!!’

ট্রাম্প ব্রিটেনের রাজপরিবার বিশেষ করে রাজা তৃতীয় চার্লসের একজন ভক্ত হিসেবে পরিচিত। তিনি বিভিন্ন সময় রাজা চার্লসকে ‘একজন দারুণ মানুষ’ এবং ‘একজন যোদ্ধা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সাথে তার ইতিবাচক সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেছেন।
আরও পড়ুন: রাজা চার্লসও চান না যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক, বললেন ট্রাম্প
রানি এলিজাবেথের সাথে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ট্রাম্প একবার বলেন, ‘তার সাথে আমার সম্পর্কটা খুব ভালো ছিল। তিনি ছিলেন অসাধারণ। আমি তাকে পছন্দ করতাম এবং তিনিও আমাকে পছন্দ করতেন।’
‘আমার মা রাজা চার্লসে মুগ্ধ ছিলেন’
রাজা চার্লস এবং রানি ক্যামিলা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন। ট্রাম্প গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এই রাজকীয় দম্পতিকে আপ্যায়ন করেন, যেখানে তারা সাউথ লনের একটি অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বৈঠকে মিলিত হন।
হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার মা মেরি ম্যাকলিওড ট্রাম্পের কথা স্মরণ করছিলেন, যিনি ১৯১২ সালে স্কটল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মা, আমি বিষয়টা খুব স্পষ্টভাবে দেখতে পাই। তিনি রাজপরিবার এবং রানিকে ভালোবাসতেন যা আমি রাজাকে বলেছিলাম এবং যখনই রানি কোনো অনুষ্ঠানে বা অন্য কিছুতে জড়িত থাকতেন, আমার মা টেলিভিশনের সামনে একদৃষ্টে বসে থাকতেন এবং বলতেন, ‘দেখো, ডোনাল্ড, দেখো তিনি কত সুন্দর।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি সত্যিই পরিবারটিকে ভালোবাসতেন, কিন্তু আমার এটাও খুব স্পষ্টভাবে মনে আছে যে তিনি বলতেন, ‘চার্লস, দেখো ছোট চার্লস, সে কত মিষ্টি।’ তার কথায়, ‘আমার মা চার্লসের প্রতি মুগ্ধ ছিলেন। আপনি কি বিশ্বাস করতে পারেন, এটা ভেবে অবাক লাগে যে তিনি এখন কী ভাবছেন?’
]]>
৫ দিন আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·