মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক হুজুর গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগ দেন ১৯৫৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। সার্টিফিকেট অনুযায়ী তখন তিনি সোনাকান্দা দারুল হুদা মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ, নিষ্ঠার এবং ঐতিহ্যের যাত্রা— যার সময়কাল পূর্ণ হয়েছে ৭২ বছর ১ দিন।
বর্তমানে আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেবের বয়স ৮৭ বছর ২ মাস। খতিবের দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও মসজিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখানেই শেষ হচ্ছে না। জানা গেছে, জীবদ্দশায় তিনি গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদেই নিয়মিত জুমার নামাজ আদায় করবেন এবং আমৃত্যু এই মসজিদেই রমজান মাসে ইতেকাফ পালন করবেন বলে আশা করছেন।
আরও পড়ুন: মৃত্যুর পরও যে ৩ আমলের সওয়াব বান্দার আমলনামায় যোগ হতে থাকে
মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক হুজুরের ছেলে আব্দুল কাদিরকে নতুন ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তার বাবা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন এবং এই বিদায় সহজ ছিল না।
মসজিদ কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান আবেগভরে বলেন, “হুজুর ১৩ বছর বয়সে এখানে ইমামতি শুরু করেছিলেন। আজকের দিনে এমন ইমাম পাওয়া হয়তো আর সম্ভব নয়। এখানে টাকার বিনিময় কোনো বিষয় ছিল না। উনার দাদা এই মসজিদে ইমামতি করেছেন, এরপর উনার বাবা ও চাচা করেছেন, সবশেষ উনিই দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। ৭২ বছর ধরে এই মসজিদের মুসল্লিরা উনার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন।”
তিনি আরও বলেন,
হুজুরের মেধা, প্রজ্ঞা আর গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা তার অভাব গভীরভাবে অনুভব করবো। আমরা সবাই চাই তিনি আরও ইমামতি করুক। কিন্তু বয়সের কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত আমাদের সবাইকে মর্মাহত করেছে।
গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লিরা বলছেন, আলহাজ্ব মাওলানা আবদুল হক পীর সাহেবের নাম চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে মুসল্লিদের স্মৃতি, দোয়া আর ভালোবাসায়।

২ সপ্তাহ আগে
৩







Bengali (BD) ·
English (US) ·