পেশায় গৃহশিক্ষক ও কবি মিজানুর রহমান ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী হিসেবে ‘আম’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। তার স্থাবর সম্পদ বলতে কেবল বাবার ৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি কাঁচা ঘর। টিউশনি করে বছরে যে ১০ হাজার টাকা আয় করেন, তা দিয়েই চলে তার জীবন। আয়কর দেওয়ার মতো অবস্থা না থাকলেও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে আয়কর বিবরণী জমা দিতে হয়েছে।
১৯৮৮ সালে জন্ম নেওয়া মিজান ২০০৫ সালে এসএসসি পাস করেন। ২০০৭ সালে দেশপ্রেমের টানে নাবিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। কিন্তু সাহিত্যমনা মিজানের মন টেকেনি কঠোর নিয়মের শৃঙ্খলে। ২০১৯ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি কবিতা লেখার পাশাপাশি গ্রামের শিশুদের প্রাইভেট পড়ান। দারিদ্র্যের কারণে ২০১৯ সালেই তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান, যা তার জীবনসংগ্রামে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চাইলেও ভোটারের স্বাক্ষরের জটিলতায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। মিজানের অভিযোগ, তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের চাপে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়াই করে তিনি তাক লাগিয়ে দেন। কোনো প্রচারবহর ছাড়াই ২৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন তিনি। সেই বিপুল জনসমর্থনই তাকে আজ সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
আরও পড়ুন: রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিএনপি নেতাকর্মীদের হেনস্তা
মিজানুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় থাকবে না কোনো বিশাল মিছিল বা দামি পোস্টার। তিনি বলেন, 'এটি মাফিয়া বনাম সাধারণ মানুষের লড়াই। অর্থ ও পেশিশক্তি দিয়ে যারা নির্বাচিত হন, তারা জনগণের কথা বলেন না। আমি কোনো পোস্টার-ব্যানার করব না। বন্ধু-স্বজনদের দেওয়া ৩০ হাজার টাকায় লিফলেট ছাপিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাব।'
ভোলা জেলার ৪টি আসনের ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে মিজানই সবচেয়ে দরিদ্র। তার বিরুদ্ধে নেই কোনো ফৌজদারি মামলা। মিজানের দাবি, তিনি নির্বাচিত হতে পারলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সংসদে কথা বলবেন। প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণকে সাথে নিয়ে বাস্তব সমস্যা সমাধানের স্বপ্ন দেখান এই কবি।

১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·