শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আসিফ নিজের একটি ছবি ফেসবুকে আপলোড করেন। ক্যাপশনে তুলে ধরেন শিল্পীদের টিকে থাকার সংগ্রামের লড়াই। শিল্পীদের টিকে থাকার সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার অভাব- সব মিলিয়ে তার লেখায় ফুটে উঠেছে এক অনিশ্চিত শিল্পজগতের প্রতিচ্ছবি।
গায়কের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের নানা সমস্যার প্রতিফলন ঘটে সংস্কৃতি অঙ্গনে, আর সংকটের প্রথম আঘাত আসে সংগীত কার্যক্রমে। শিল্পীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই, নেই ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগ। এমনকি অনেক সময় বাসাভাড়ার ক্ষেত্রেও মেলে না সহযোগিতা।
সময়ের পাঠকের জন্য সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের সে পোস্ট তুলে ধরা হলো-
‘পবিত্র রমজান মাস এলেই করোনাকালীন যন্ত্রনা তাড়িয়ে বেড়ায়। এমনিতেই বাংলাদেশের সমস্ত সমস্যা প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতি অঙ্গনে, প্রথম চালানেই বন্ধ হয় সঙ্গীতের কার্যক্রম। এই দেশে শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা প্রাপ্তির কোনো অপশন নেই, ব্যাংক লোন দেয় না, বাড়িওয়ালা দেয় না বাসা ভাড়া। তবুও থেমে নেই চর্চা, চলছে পেশা নিয়ে টিকে থাকার যুদ্ধ।’
‘করোনার সময় আমরা রেকর্ডিং করতাম মোবাইল ফোনে। স্টুডিও বন্ধ, টেকনিশিয়ান নাই, সব কাজ হতো বাসায় অবস্থান করেই। নিরাপত্তা আতঙ্কে মিউজিশিয়ানরা কেউ চলে গেছেন শহর ছেড়ে, কেউ প্রবাসে, কেউ বদলে ফেলেছেন পেশা। তবুও শুকরিয়া- ধ্রুব গুহ দাদার মত দু/একজন বোকা প্রডিউসার ছিলেন আমাদের পাশে।’
আরও পড়ুন: ‘চুপিচুপি’ দিয়ে আত্মপ্রকাশ করল ‘আর্টবক্স মিউজিক’
‘যেভাবে সরকার যায় সরকার আসে, ঠিক সেভাবেই চাটুকারের দল যায়, চাটুকারের দল আসে। একঘেয়ে গালভরা বুলি আর স্বপ্ন পোড়া ছাই- এই টম এন্ড জেরি'র গল্প যেন শেষ হবার নয়!’
আরও পড়ুন: সুরের আবেশে আজও অমলিন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়
এখন দেশে মিউজিক বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলে কিছু নেই, আছে সেগুলোর কঙ্কালসার অবয়ব। এই অবয়ব দিয়ে ল্যাবেও (গবেষণা) কাজ হবে না। করোনা শিক্ষা আর আতঙ্ক নিয়ে এসেছিল, চলেও গেছে। আমরা সব ভুলে যাই বরাবরের মতো, বিপদ কেটে যাওয়ায় আবারও হয়ে গেছি অহঙ্কারী। সংস্কৃতিকর্মীদের নিজেদের স্বার্থপরতায় প্রতি পদে পদে নিহত হয় সম্ভাবনা, আর সাংস্কৃতিক বলয়ে ছড়ি ঘোরায় অভিশপ্ত পদাতিক। তবুও ভালোবাসা অবিরাম।
]]>

৩ সপ্তাহ আগে
৭







Bengali (BD) ·
English (US) ·