জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরও কেন কাটছে না দুর্ভোগ?

১ সপ্তাহে আগে
জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও মাঠপর্যায়ে ভোগান্তি কমেনি। জ্বালানি বিভাগের আশা, কয়েক দিনের মধ্যেই ধীরে ধীরে গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে। তবে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির মতে, চাপ কমাতে ডিপো থেকে তেল সরবরাহ আরও বাড়ানো জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানি নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের দামও ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। দাম বাড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা এলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। এখনো ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দিনের বড় সময় কাটাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

 

চালকরা বলেন, অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। এখন দুই দিকেই লস হচ্ছে; টাকাও বেশি লাগছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে। পাঁচ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, ভোগান্তি কমেনি। সকাল থেকে তেল দেয় না অনেক পাম্পে। যদি সত্যিই সরবরাহ থাকত, তাহলে সকাল থেকেই দিত।

 

স্বাভাবিকভাবে প্রতি বছরই জ্বালানি তেলের চাহিদা কিছুটা বাড়ে। তবে গত এক মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের একই সময়ের গড় বিক্রির সঙ্গে মিল রেখেই জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বাড়তি চাহিদা পূরণে ফিলিং স্টেশনগুলোকে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: ঢাকার যে ৭ পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ

 

বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, গাড়ির সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এই বাড়তি গাড়ির জ্বালানি কে দেবে? যারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তারা কি এসব বিষয় ভাবছেন? আমার মতে, ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই জনগণের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

 

সবশেষে বিপিসির নির্দেশনায় দৈনিক ডিজেল সরবরাহ ১১ হাজার মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১৩ হাজার মেট্রিক টন করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে পেট্রোল সরবরাহও বাড়ানো হবে, এতে দৈনিক বিক্রি দেড় হাজার মেট্রিক টনের বেশি হবে। অকটেনও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দৈনিক ১ হাজার ৪২২ মেট্রিক টন সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

এতে ধীরে ধীরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছে সরকার। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা সরবরাহ বাড়িয়েছি এবং এটি অব্যাহত থাকবে। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ফিলিং স্টেশনগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আমরা নজর রাখছি।

 

তবে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির দাবি, গ্রাহকদের স্বস্তি ফেরাতে ডিপো থেকে সরবরাহ আরও বাড়াতে হবে। মোহাম্মদ নাজমুল হক আরও বলেন, ১০-২০ শতাংশ বাড়ানো ভালো উদ্যোগ। এখন দেখি এতে চাহিদা মেটে কি না। যদি না মেটে, তাহলে আরও বাড়াতে হবে। মূল সমাধান হলো সরবরাহ স্বাভাবিক করা।

 

জ্বালানি বিভাগের দাবি, মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং সরবরাহ নিয়ে বড় কোনো শঙ্কা নেই। তবে বাস্তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনো ভোগান্তির চিত্র স্পষ্ট। ভোক্তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন