দেশটির সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি, খাদ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সুষ্ঠু পরিবহন, সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে মার্কোস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এতে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির ও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
আরও পড়ুন: জেট ফুয়েলের দামে ফের বড় লাফ, লিটারে বাড়ল কত?
তিনি আরও বলেন, জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সরকার বিদ্যমান আইনের আওতায় থেকে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলা সহজ হবে।
এই জরুরি অবস্থা এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এ সময় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে চুক্তিমূল্যের একটি অংশ আগাম পরিশোধের ক্ষমতাও পাবে।
ফিলিপাইনের জ্বালানি সচিব শ্যারন গারিন জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবহারের হিসেবে দেশে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। সরকার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরের দেশগুলো থেকে ১০ লাখ ব্যারেল তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে পরবর্তী চালান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সরকারের মতে, এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। কারণ এই সংঘাত এরই মধ্যে তেলের দাম বাড়িয়ে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এদিকে মার্কোস অর্থ মন্ত্রণালয়কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে ফিলিপিনো পেসো ও প্রবাসী আয়ের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে পেসোর অবমূল্যায়নের ঝুঁকি বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চাহিদা বাড়ায় তেলের সংকট, অতিরিক্ত না নেয়ার পরামর্শ জ্বালানিমন্ত্রীর
তবে নির্বাহী আদেশ জারির আগেই সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনেটররা। তাদের অভিযোগ, তেলের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা মন্ত্রীও সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির দাম বাড়ানো মুদ্রাস্ফীতিকে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে এবং এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়ানো এবং সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী ও ভোক্তা সংগঠনগুলো বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
]]>
৩ সপ্তাহ আগে
৭







Bengali (BD) ·
English (US) ·