জুলুমের শাস্তি দুনিয়াতেই পেতে হয়

৭ ঘন্টা আগে
জুলুম এমন একটি অপরাধ, যার শাস্তি শুধু পরকালের জন্য সংরক্ষিত থাকে না। অনেক সময় মানুষ দুনিয়াতেই এর ফল ভোগ করতে শুরু করে। ইসলাম জুলুমকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কারণ জুলুম ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র, সবকিছুকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

মানুষ যখন অন্যের ওপর জুলুম করে, তখন সে ভাবে এতে তার লাভ হবে। সে মনে করে, অন্যকে কষ্ট দিয়ে সে শক্তিশালী হবে। অন্যের অধিকার কেড়ে নিয়ে সে উন্নতি করবে। বাস্তবে এর ফল হয় সম্পূর্ণ উল্টো। জুলুম মানুষকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুটি গুনাহ এমন রয়েছে, যার শাস্তি পরকালে নিশ্চিত হলেও দুনিয়াতেই তার প্রতিফল দেওয়া হয়। একটি হলো জুলুম। অন্যটি হলো আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা। এই হাদিস প্রমাণ করে যে, জুলুম আল্লাহর কাছে কতটা ভয়াবহ অপরাধ।

 

জুলুমের শাস্তি দুনিয়াতে বিভিন্নভাবে আসে। কখনো মানসিক অশান্তির মাধ্যমে। কখনো পারিবারিক কলহের মাধ্যমে। কখনো সম্মানহানির মাধ্যমে। আবার কখনো সম্পদের বরকত তুলে নিয়ে। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না, কেন তার জীবন থেকে শান্তি হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কারো হক নষ্ট করার গুনাহ।

 

আরও পড়ুন: মুসলিম সভ্যতায় দরবেশ শব্দের ব্যবহার

 

হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তিনি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছেন এবং বান্দাদের মাঝেও জুলুম হারাম করেছেন। এরপরও মানুষ যখন জুলুম করে, তখন সে আল্লাহর এই স্পষ্ট নিষেধ অমান্য করে। এর পরিণতি দুনিয়াতেই শুরু হয়ে যায়।

 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ জালিমকে কিছু সময় দেন। কিন্তু যখন তিনি পাকড়াও করেন, তখন আর পালানোর কোনো পথ থাকে না। অনেক সময় এই পাকড়াও দুনিয়াতেই হয়ে যায়। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। সম্মান থাকা সত্ত্বেও লাঞ্ছিত হয়।

 

কিয়ামতের দিন জুলুম ভয়াবহ অন্ধকারে পরিণত হবে। সেদিন টাকাপয়সা কোনো কাজে আসবে না। ক্ষমা কেনাবেচার সুযোগ থাকবে না। যার ওপর জুলুম করা হয়েছে, তার হক নেক আমলের মাধ্যমে আদায় করা হবে। আর নেক আমল না থাকলে মজলুমের গুনাহ জালিমের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হবে।

 

এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি কেউ কারো সম্মানহানি বা ক্ষতি করে থাকে, তবে দুনিয়াতেই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। হক আদায় করে দিতে হবে। ভয়াবহ সেই দিনের আগেই নিজেকে পরিষ্কার করতে হবে।

 

ইনসাফ সমাজে শান্তি আনে। জুলুম সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। ইনসাফ আল্লাহর রহমত টেনে আনে। জুলুম আল্লাহর আজাব ডেকে আনে। তাই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো, জুলুম থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। মনে রাখতে হবে, জুলুমের শাস্তি শুধু পরকালে নয়। অনেক সময় দুনিয়াতেই শুরু হয়ে যায়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন