আবুল খায়েরের মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি বাকরুদ্ধ করেছে তার ১৫ মাস বয়সী একমাত্র সন্তান আরহামকে। ২০২৪ সালের জুন মাসে যখন খায়ের বিদেশে পাড়ি জমান, আরহাম তখনো জন্মায়নি। বাবার সঙ্গে আরহামের পরিচয় ছিল কেবল ভিডিও কলে। আধো আধো কণ্ঠে ‘বাবা’ বলে ডাকতে শিখলেও জীবিত বাবাকে কখনো ছোঁয়া হলো না তার। বাবার মরদেহের কফিনই হলো সন্তানের সঙ্গে বাবার প্রথম ও শেষ দেখা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের মাত্র ৫ মাসের মাথায় ধারদেনা ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে কিরগিজস্তানের সোকুলুক শহরে যান খায়ের। গত ২০ মার্চ দুপুরে সেখানে একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় হঠাৎ বিশাল এক মাটির স্তূপ তাঁর ওপর ধসে পড়ে। সহকর্মীরা উদ্ধার করার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দীর্ঘ সময় পর আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটায় তাঁর মরদেহ নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছায়।
খায়েরের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, খায়েরের নিজের বলতে কোনো জমি বা সম্পদ অবশিষ্ট নেই। বিদেশে যাওয়ার খরচ মেটাতে বসতভিটার শেষ জায়গাটুকুও বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: পরিবারের সুখে নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করে গেলেন দিপালী
তিনি বলেন, খায়েরের স্ত্রী ও সন্তানকে থাকার জন্য আমি আমার জায়গায় ঘর করে দিয়েছি। এখন এই এতিম সন্তান আর ওর মাকে নিয়ে তারা কীভাবে চলবে, সেটাই বড় দুশ্চিন্তা। আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

১ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·