জিতেও বাদ পড়লো পাকিস্তান

৬ দিন আগে
ম্যাচটা শ্রীলঙ্কার জন্য স্রেফ নিয়ম রক্ষার হলেও পাকিস্তানের জন্য ছিল সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াই। জিততে হবে ১৩.১ ওভারের মধ্যে না হয় ৬৪ রানের ব্যবধানে, এমন সমীকরণে আগে ব্যাট করতে নেমে শাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরি ও ফখর জামানের ৮৪ রানে ভর করে ২১২ তোলে পাকিস্তান। শেষ চারে পা রাখতে হলে এমতাবস্থায় লঙ্কানদের আটকাতে হবে ১৪৭ রানের মধ্যে। তবে রাথানায়াকে ও শানাকা গড়বড় করে দিলেন সব হিসাব-নিকাশ। রাথানায়াকের ৫৮ ও শানাকার অপরাজিত ৭৬ রানের ইনিংসে ভর করে স্বাগতিকরা থামে থামে ২০৭ রানে। ফলে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৫ রানের জয় পেয়েও রানরেটে পিছিয়ে থাকায় সেমিফাইনালে যেতে পারলো না পাকিস্তান।

শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৮ রান। শাহিন আফ্রিদির প্রথম বলেই চার মারলেন দাসুন শানাকা। পরের তিন বলে টানা ৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখান শানাকা। শেষ দুই বলে তখন দরকার ছিল ৬ রান, তবে দুটি বলই ডট করেন লঙ্কান অধিনায়ক। 

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় শ্রীলঙ্কা। সমীকরণ মেলাতে হলে করতে হবে অনেক রান, কেননা তাদের জিততে হবে অন্তত ৬৪ রানের ব্যবধানে। এমন সমীকরণে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। দুজনে মিলে গড়েন ১৭৬ রানের জুটি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে-কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি। ফখর না পারলেও তিন অঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছেন ফারহান। এই দুই ব্যাটার ছাড়া পাকিস্তানের আর কোনো ব্যাটারই ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘর। 

 

জবাব দিতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পাথুম নিসাঙ্কার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা, স্কোরবোর্ডে রান তখন মাত্র ৮। ৭ বলে ৩ রান করে নাসিম শাহ’র বলে মোহাম্মদ নাওয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার। পঞ্চম ওভারে কামিল মিশারাকে সাজঘরে ফেরান আবরার আহমেদ। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৬ রান। 

 

নবম ও একাদশ ওভারে চারিথ আসালাঙ্কা ও কামিন্দু মেন্ডিসের উইকেট তুলে নেন আবরার। ১৮ বলে এক চার ও দুই ছক্কায় ২৫ রান করে ফেরেন আসালাঙ্কা। কামিন্দু ফেরেন ৬ বলে ৩ রান করে। ১২তম ওভারে জেনিথ লিয়ানাগের উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। ৩ বলে ৫ রান করেই থামেন এই ব্যাটার। 

 

আরও পড়ুন: কোহলির এক আসরে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ড ভাঙলেন পাকিস্তানের ফারহান

 

একপ্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন পাভান রাথানায়াকে। ১৮তম ওভারে বল করতে এসে তাকে থামান শাহিন আফ্রিদি। ৩৭ বলে ৫৮ রান করে সাইম আইয়ুবের হাত ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ততক্ষণে অবশ্য পাকিস্তানের সেমিফাইনালে খেলার আশা শেষ হয়ে গেছে। 

 

রাথানায়াকে ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ঝড় তোলেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। ৩১ বলে খেলেন অপরাজিত ৭৬ রানের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত তাদের ইনিংস থামে ২০৭ রানে। পাকিস্তানের হয়ে আবরার আহমেদ নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও উসমান তারিক নেন একটি করে উইকেট।     

 

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ফখর জামান ও সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় পাকিস্তান। যদিও শেষদিকে ৩৪ রানের মধ্যে ৮টি উইকেট পড়ে না গেলে সংগ্রহটা আরও বড় হতে পারত। ফখর সেঞ্চুরি মিস করলেও ফারহান করেননি। ৬০ বলে ঠিক ১০০ রান করেছেন তিনি। ফখর করেন ৮৪ রান। 

 

ফখর-ফারহান জুটির তাণ্ডবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে-কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছেন তারা। ফখর জামানের বিদায়ে ১৭৬ রানে ভাঙে সেই জুটি। রেকর্ডটি কদিন আগেই নতুন করে লিখেছিল নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট মিলে আরব আমিরাতের বিপক্ষে তুলেছিলেন ১৭৫ রান। সেই রেকর্ড টিকল মাত্র ১৮ দিন। 

 

আরও পড়ুন: জিসান-মোসাদ্দেকের ব্যাটে অবিশ্বাস্য জয় সেন্ট্রালের, নর্থ জোনকে নিয়ে ফাইনালে অঙ্কনরা

 

ক্যান্ডিতে প্রথম ঝড়টা তোলেন ফারহান। ৩২ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করার পথে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ডে নাম লেখান তিনি। ২০১৪ সালে কোহলির করা ৩১৯ রানের রেকর্ড টপকে এই আসরে তিনি করেছেন ৩৮৩ রান। 

 

ফারহানের চেয়ে ফখর জামানই ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। মাত্র ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন তিনি। তার বিদায়ে শ্রীলঙ্কা প্রথম উইকেটটি পায় ১৬তম ওভারে। ৪২ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৯টি চার ও ৪টি ছয় দিয়ে। পরের ২৩ রানের মধ্যে পাকিস্তান হারায় খাজা নাফে, শাদাব খান, মোহাম্মদ নাওয়াজ ও সালমান আগা আলীর উইকেট। এদের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। 

 

ফারহান সেঞ্চুরি তুলে নেন ৫৯ বলে। অবশ্য পরের বলেই আউট হন। সেঞ্চুরি করার ইনিংসটিকে তিনি সাজান ৯টি চার ও ৫টি ছয়ের মারে। এবারের বিশ্বকাপে এটা তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, নামিবিয়ার বিপক্ষেও ঠিক ১০০ রান করেছিলেন এই ব্যাটার। শ্রীলঙ্কার হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন দিলশান মদুশাঙ্কা, ২টি দাসুন শানাকা।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন