এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য জাপান। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে ১৮০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করলেও বাংলাদেশ সেখানে রফতানি করেছে ১৪০ কোটি ডলার। এর প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। পাশাপাশি হিমায়িত মাছ, চামড়া ও পাটজাত পণ্যও রফতানি হয়েছে।
আগামী নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ রফতানি বাজারে বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা হারাবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ইপিএ করতে যাচ্ছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তিটি আজ ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষর হবে।
আরও পড়ুন: শুল্ক ছাড় / ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রে সুবিধাজনক অবস্থানে ভারত, রফতানি বাজারে দ্বিগুণ চাপে বাংলাদেশ!
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, যেসব বাজারে আমরা বর্তমানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাই, সেসব দেশে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জাপানের সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়েছে এবং ৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
এই ইপিএর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিপরীতে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশেও একই সুবিধা পাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ৯৭টি এবং জাপানের ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত হবে। রফতানিকারকরা মনে করেন, এটি বাজার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে।
ব্যান্ডো ইকো অ্যাপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান কাজী মনির উদ্দিন তারিম বলেন, ২০২৪ সালে আমরা ৪৭ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্য থাকলেও ২৭ বিলিয়নও করতে পারিনি। বর্তমানে সাড়ে চার হাজার কারখানার মধ্যে মাত্র ১ হাজার ১০০টি চলছে। এসব কারখানার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে, যদি সরকার দ্রুত উদ্যোগ না নেয়।
আরও পড়ুন: এনবিআরের অটোমেশন জটিলতা, রফতানির ধীরগতিতে দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা
বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, জাপানের বাজার প্রায় ২৪-২৫ বিলিয়ন ডলারের। সেখানে আমরা মাত্র ৩-৪ বিলিয়ন ডলার রফতানি করি। জিরো ট্যারিফ সুবিধা ২০২৯ সালের পরেও থাকলে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আসিয়ানের বাজারে প্রবেশ আমাদের রফতানিকে আরও শক্তিশালী করবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশেরও যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার সক্ষমতা আছে, তা তুলে ধরবে জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ চুক্তি। অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এই ইপিএ না হলে ভবিষ্যতে জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকত না। এখন বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট বার্তা পাচ্ছেন যে বাংলাদেশ জাপানের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে। এটি প্রমাণ করে, বাংলাদেশ বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার সক্ষমতা রাখে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
]]>
৪ সপ্তাহ আগে
৫







Bengali (BD) ·
English (US) ·