জলাশয় ছাড়াই হাঁস পালন: কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎসে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন খামারিরা

৪ সপ্তাহ আগে
হাওরাঞ্চলের বাস্তবতায় হাঁস পালন নতুন কিছু না হলেও, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে চিত্র। সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় জলাশয় ছাড়াই বেইজিং বা পিকিং জাতের হাঁস পালনে মিলছে দ্রুত লাভ। এছাড়াও, ডিমের খোসা থেকে তৈরি পাউডার ব্যবহৃত হচ্ছে জৈব সার ও প্রাণী খাদ্য হিসেবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে খামারি ও উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা। এতে কমছে দারিদ্র্য, তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান।

জলাশয়কে কেন্দ্র করে পালন করা হয় হাঁস। কিন্তু নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগর গ্রামে পালন করা হচ্ছে এমন এক ধরনের হাঁস যার জন্য জলাশয় জরুরি নয়। শুধু একটি মাচা থাকলেই এই বিদেশি জাতের হাঁস পালন সম্ভব।

 

সাদা রঙের এই হাঁসগুলো বেইজিং বা পিকিং জাতের হাঁস নামে পরিচিত। পানি ছাড়া মাচায় পালনের ক্ষেত্রে দিনে শুধু দুইবার খাবার দিতে হয় হাঁসকে। এতে খরচ হয় কম। দুই থেকে আড়াই মাসে এক একটি হাঁসের ওজন হয় আড়াই থেকে তিন কেজি।

 

আরও পড়ুন: নিরাপদ পানির অভাবে হুমকিতে বাগেরহাট আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের বাচ্চা উৎপাদন

 

এই জাতের হাসগুলো পালন করছেন আদর্শনগর গ্রামের বাসিন্দা শান্তনা রানী দাস। আধুনিক প্রযুক্তি অনুসরণ করে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছেন পারিবারিক খামার। তিনি সময় সংবাদকে বলেন, পাতি হাঁসগুলো অনেক সময় মারা যায় অসুখে। কিন্তু পিকিং জাতের হাঁস পানিতে বা বাইরে না যাওয়ায় রোগ হচ্ছে না; তাই অসুখেও মরারা ঝুঁকি কম।

 

সরকারি বেসরকারি সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার তরফ থেকে হাঁস প্রতিপালনে ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ায় খামারিদের আগ্রহ বাড়ছে। তাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনে আরও বেশি হাঁসের খামার গড়ে উঠবে যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

এদিকে এক সময়ের ফেলনা ডিমের খোসাই এখন সম্ভাবনার নাম। ডিমের খোসা থেকে পাউডার তৈরি করে ভাগ্য বদলের গল্প লিখছেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা বাজারের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন।

 

ডিমের খোসায় প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকায় জৈব সার, হাঁস-মুরগির খাদ্য এবং গাছের জন্য প্রাকৃতিক সার হিসেবে ব্যবহার করে সুফল পাওয়া যাচ্ছে। মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ডিমের খোসার ব্যবসা করছি প্রায় এক বছর ধরে। খাদ্যের সঙ্গে ডিমের খোসার গুড়া মিক্স করে হাঁসকে খাওয়ানো হয়।

 

প্রান্তিক পর্যায়ের খামারি এবং উদ্যোক্তাদের মাঝে আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন। আর মাঠ পর্যায়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে দুঃস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা।

 

নেত্রকোনা জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ভৌগোলিকভাবেই নেত্রকোনা হাঁস পালনের জন্য খুবই উপযোগী একটা জায়গা। পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় ডিএসকে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার খামারিকে প্রান্তিক এবং খামারি পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়েছে।

 

আরও পড়ুন: কৃষকদের ভাগ্য বদলের গল্প লিখছে খাকি ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস

 

পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, পিকেএসএফ যে কৌশল নিয়েছে, তা হলো ‘যতটা সম্ভব প্রাথমিক পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা’। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে প্রকল্পগুলোকে বড় আকারে সম্প্রসারণ করতে হবে। ছোট ছোট কার্যক্রমগুলোকে বড় করে তোলা প্রয়োজন। এজন্য কৌশলটি হচ্ছে, যেসব এলাকায় কোনো কাজের তুলনামূলক সুবিধা আছে, সেখানে সেই কাজগুলোকে মূল্য চেইনে (ভ্যালু চেইনে) যুক্ত করে সম্পূর্ণ করা। যাতে সব স্টেকহোল্ডার উপকৃত হয়। এক চেইনের সঙ্গে আরেক চেইন জড়িত থাকায় এর মাধ্যমে সমন্বিত সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনই বাড়ছে না, তৈরি হচ্ছে প্রচুর কর্মসংস্থান, যা সহায়তা করছে দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন