জমে ওঠেছে মিশরের ঐতিহ্যবাহী কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলার ৫৭তম আসর

১০ ঘন্টা আগে
যে এক ঘণ্টার জন্য বই পড়া বন্ধ করে দেয়, সে শতাব্দীকালের জন্য পিছিয়ে পড়ে। এ স্লোগানকে ধারণ করে মিশরের রাজধানীতে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ ‘কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলা’র ৫৭তম আসরের পর্দা উঠেছে। ফ্রাঙ্কফুর্টের পরেই যাকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলা হিসেবে গণ্য করা হয়, সেই কায়রো এখন বইয়ের উৎসবে মাতোয়ারা।

২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে মিশরের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রে শুরু হয়েছে কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলার ৫৭তম আসর। জেনারেল ইজিপশিয়ান বুক অর্গানাইজেশন (GEBO)-এর পরিচালনায় এই মহাযজ্ঞ চলবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।


এবারের মেলার ব্যাপ্তি ও আয়োজন চোখে পড়ার মতো। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপসহ বিশ্বের মোট ৮৩টি দেশ থেকে ১,৪৫৭টি প্রকাশনী এতে অংশ নিয়েছে। ৬,৬৩৭ জন প্রদর্শকের উপস্থিতি এবং প্রায় ৪০০টি সাংস্কৃতিক কর্মশালা মেলাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

 

এবারের মেলাটি উৎসর্গ করা হয়েছে মিশরের কিংবদন্তি সাহিত্যিক ও নোবেলজয়ী লেখক ‘নাগিব মাহফুজ’-কে। তাঁকে ‘পার্সোনালিটি অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে সম্মান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এবারের আসরে ‘Guest of Honor’ বা অতিথি দেশ হিসেবে সম্মাননা পাচ্ছে রোমানিয়া।

 

আরও পড়ুন: দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ করার সুযোগ পেলেন ২ অন্ধ হাফেজ


 

পাঠকদের উদ্বুদ্ধ করতে এবারের মেলার স্লোগানটি অত্যন্ত চমৎকার ‘মান ইয়াতাওয়াক্কাফু আনিল কিরাআতি সা‘আতান, ইয়াতাআখখারু কুরুনান অর্থাৎ, যে এক ঘণ্টার জন্য পড়া বন্ধ করে দেয়, সে শতাব্দীকাল পিছিয়ে পড়ে।


মেলায় সরকারি-বেসরকারি সব প্রকাশনীতে থাকছে ৩০% ছাড়। এছাড়া মিশর সরকারের বিশেষ প্রকল্প A Library for Every Home-এর আওতায় মাত্র ১০০ পাউন্ডে পাওয়া যাচ্ছে ২০টি বইয়ের বিশেষ প্যাকেজ। এমনকি কিছু বই মিলছে মাত্র ১ পাউন্ডেও!

 

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ইব্রাহিম খলিল মজুমদার সময় সংবাদকে বলেন, কায়রো বইমেলা বাংলাদেশি পাঠকদের কাছেও অত্যন্ত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে আরবি ভাষার বিভিন্ন দুষ্পাপ্র্য কিতাব সংগ্রহের জন্য এটি এক বিশাল সুযোগ। তবে গর্বের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক এই মেলায় বাংলাদেশি লেখকদের বইও এখন দাপটের সাথে বিক্রি হচ্ছে।



তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট স্কলার ও বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, মুফতি আব্দুল মালেক সাহেবের বিখ্যাত আরবি গ্রন্থ ‘আল-মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিসিশ শরিফ’ ২০২১ সালের মতো এবারও বেস্টসেলারের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ২০২৬ সালের এই আসরে তার গবেষণামূলক নতুন গ্রন্থগুলো আন্তর্জাতিক পাঠকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

 

১ নম্বর হলে থাকছে আয়োজক সংস্থা এবং কালচারাল প্যালেস অথরিটি। ২ ও ৩ নম্বর হল বরাদ্দ বিদেশি প্রকাশনী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা সংস্থার জন্য। ৪ নম্বর হলটি বিশেষ আকর্ষণ, এখানে রয়েছে ধর্মীয় প্রকাশনা ও আল-আযহার প্যাভিলিয়ন। এখানে ফতুয়া কর্নার ও বিনামূল্যে উপহারের ব্যবস্থাও রয়েছে। ৫ নম্বর হলে রয়েছে শিশুদের জন্য বিশেষ কর্নার, যেখানে নামমাত্র মূল্যে বই ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

জ্ঞানপিপাসু মানুষ এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে কায়রো। ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে অক্ষরের এই বিশ্বযুদ্ধ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন