তিনি বলেন, ‘রাজনীতি হবে ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে। আমার আদর্শ আমার কাছে আরেকজনের আদর্শ তার কাছে। আমি যেমন আমার আদর্শকে ভালোবাসি আরেকটা লোক তার আদর্শকে ভালোবাসার অধিকার আছে। এটা তার নাগরিক অধিকার। এখানে মুখ চলবে, হাত বলবে কেন? মুখ চলবে ভদ্রভাবে, অভদ্রভাবে নয়।’
শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী সহিংসতায় আহত জামায়াতকর্মী সিরাজুল ইসলামকে দেখতে আসেন জামায়াত আমির। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশে দুটি উপনির্বাচন ছিল জাতীয় সংসদের। একটি শেরপুর ও আরেকটি বগুড়ায়। দুটি জায়গায় আমার আশা করেছিলাম বিগত নির্বাচন যেভাবেই হোক এখন একটি সরকার হয়ে গেছে। আমরা কেউ বসেছি সরকারি দলে কেউ বসেছি বিরোধী দলে। এখন সুন্দর ভাবে দেশটা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু এ দুটি নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়ম, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি, সহিংসতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে ভয়াবহ সন্ত্রাসে রুপ নিয়েছে। এরকম একটি বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে শেরপুর-৩ আসনে। এর আগেও আপনার জানেন যখন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো তার আগেও এ ধরনের সহিংসতায় আমাদের উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে খুন করা হয়। তার সঙ্গে আরও তিনজন আহত ছিলেন তারা এখনও চিকিৎসা নিচ্ছে, এখনও আশঙ্কামুক্ত হননি। সেখানে আমাদের যিনি প্রার্থী ছিলেন তিনি ভোটের আগেই ইন্তেকাল করেন। যার কারণে ভোট স্থগিত হয়ে গেল। এই স্থগিত নির্বাচনই ছিল ৯ এপ্রিল। এ নির্বাচনেও একজন বয়স্ক মানুষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে। আঘাত একটাই, কিন্তু গুরুতর। তিনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় প্রথমে ছিলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী আজদে দেখলাম তিনি সংজ্ঞা ফিরে পেয়েছেন। আমাদের কাছে প্রথমে খবর গিয়েছিল তিনি ইন্তেকাল করেছেন, আমরা সংসদের ভিতরেও সে কথাটা বলেছি। কিন্তু আল্লাহর শুকরিয়ে তার হায়াত রেখেছেন।’
আরও পড়ুন: ভারতে অনুপ্রবেশের সময় হামলায় বাংলাদেশি যুবক আহত
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘যারা পার্লামেন্টে (সংসদে) যাবেন তারা যদি মানুষ খুন করে পার্লামেন্ট (সংসদে) যান তারা দেশবাসীর জন্য কী করবেন বলেন তো দেখি। মানুষের জীবন নিয়ে আমার পার্লামেন্টে যেতে হবে কেন? আমি তো যাব মানুষের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারার হয়ে। সেই আমি লোকটার হাতে যদি আগেই জীবন চলে যায়, ইজ্জত চলে যায়, সম্পদও ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে আমি তো আসলেই এই ধরনের প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা রাখি না, আমি অযোগ্য। এ জন্য আমরা আহ্বান জানাবো ভবিষ্যতে নির্বাচন শেষ হয়নি, আরও বহু নির্বাচন রয়েছে। গণতান্ত্রিক একটি দেশে তার কাঠামো নির্বাচনের ওপর নির্ভরশীল। সেই নির্বাচনে যেন আর কোনো সহিংসতা না হয়, আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়, কোনো বোন যেন বিধবা না হয়, কোনো সন্তান যেন এতিম না হয়। আমরা চাইব আদর্শের লড়াই হোক। হাতের লড়াই নয়, অস্ত্রের লড়াই নয়।’
গতকাল সংসদে ওয়াকআউট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এগুলো জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই যে পুলিশ সদস্যরা আছেন তারা তাদের নিজস্ব ডিপার্টমেন্টেও সুবিচার পান না। আমরা সেগুলো নিয়েও কথা বলতে চেয়েছি। আমাদেরকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। আমরা এই কথা থামাব না। সংসদের ভেতরেও বলব, বাইরেও বলব। তবে সরকার তার দায়িত্ব পালনে এবং জনগণকে দেওয়া তাদের যে ওয়াদা ছিল সেটা তারা লঙ্ঘন করেছে, অন্যায় করেছে জনগণের ওপর জুলুম করেছে এবং জনগণকে অপমান করেছে। আমরা সেই অপমানের প্রতিশোধ আল্লাহ চাইলে মারামারি করে নেব না জনগণের অধিকার কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করে নেব ইনশাল্লাহ।’

১ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·