ছয় বস্তা অতিথি পাখি শিকার, সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ ৬ জনকে জরিমানা

২ সপ্তাহ আগে
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অতিথি পাখি শিকার করে শাস্তির মুখে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ছয় জন। স্থানীয়রা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখলে প্রশাসন তাদের উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার গজারিয়া উপজেলার ইমামপুরের মাথাভাঙ্গায় তাদের বহনকারী গাড়িসহ অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে পৌঁছান। অপরাধ স্বীকার করায় ও বয়স বিবেচনায় তাদের মধ্যে একজনকে এক লাখ টাকা এবং বাকি পাঁচজনকে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এসময় জব্দ করা হয়েছে পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত ৩টি শটগান, ১টি এয়ারগান ও ৬৩ রাউন্ড শটগানের গুলি।


​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ.স.ম. হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া (৮১), হাজী ওসমান আলী (৭৭), মাজহারুল হক কোরেশী (৭০), আব্দুল্লাহ নূর (৭২), আবরার উদ্দিন আহমেদ (৭০)
ও আরিক আহমেদ (২৭)।


পুলিশ ও ​স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রাইভেটকারে ছয় জন লোক ঢাকা থেকে গজারিয়ার মেঘনায় আসেন। তাদের হাতে শটগান ও এয়ারগান ছিল। তারা ট্রলারে করে মেঘনা ও মেঘনার শাখা ফুলদী নদীর তীরবর্তী এলাকা ও গজারিয়া অংশের বিভিন্ন চরাঞ্চলে পাখি শিকার করেন। সন্ধ্যায় যখন তারা ফিরে আসলেন তখন স্থানীয়রা দেখতে পায় তারা ছয় বস্তাবন্দি প্রায় ৪ মণ পাখি শিকার করেছেন। এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামের লোকজন।  


বস্তা ভর্তি পাখিগুলো ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মাথাভাঙ্গা গ্রামের ঈদগাহ এলাকায় তাদের গতিরোধ করে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী, গাড়িতেই অবরুদ্ধ করে রাখে পাখি শিকারীদের   রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাদের উদ্ধার করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দণ্ড দেওয়া হয়।  

আরও পড়ুন: ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত


প্রত্যক্ষদর্শী আরমান হোসেন বলেন, ‘পাখি শিকার করতে আসা এই দলটি দেখে মনে হয়েছে,  যুদ্ধের প্রস্তুতি।  বন্দুক ও প্লাস্টিকের কৌটা ভর্তি গুলি ছিল তাদের কাছে। এক দিনেই তারা কয়েকশ' অতিথি পাখি শিকার করেছেন।’ 
 

আরেক গ্রামবাসী মুক্তার হোসেন বলেন, ‘নির্দয়ভাবে অসংখ্য পাখি হত্যা করে তারা পরিবেশের অপূরনীয় ক্ষতি সাধন করেছেন। তাদের আরও কঠোর শাস্তি দেয়া উচিত ছিল।’  

এদিকে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, তার খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না; শুধুমাত্র শখের বশেই পাখিগুলো শিকার করেছেন তিনি। এর আগেও পাখি শিকার করতে একাধিকবার গজারিয়ায় এসেছিলেন বলে জানান।

বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ কয়েকজন বয়স্ক লোক থাকায় তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কারাদণ্ড না দিয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ ধারায় অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তারা লিপ্ত না হন সেজন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে ও বাকিদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত বন্দুক ও গুলি জব্দ করা হয়েছে।।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন