চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিঃ শুভমান গিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের জয় নিশ্চিত করলেন

৫ দিন আগে
ফর্মে থাকা উদ্বোধনী ব্যাটার শুভমান গিল অপরাজিত ১০১ রান হাঁকিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের ৬-উইকেটে বিজয় সম্ভব করে তোলেন। দুটি দেশ বৃহস্পতিবার দুবাই-এ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাদের যাত্রা শুরু করে । ব্যাটিং-এর জন্য সুবিধাজনক নয় এমন এক উইকেটে ২২৯ রানের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ভারত গিলের সেঞ্চুরির উপর ভর করে ২১ বল বাকি থাকতেই লক্ষে পৌঁছে যায়। “এটা নিঃসন্দেহে আমার সবচেয়ে সন্তোষজনক সেঞ্চুরিগুলোর একটি, এবং কোন আইসিসি টুর্নামেন্টে আমার প্রথম,” ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হবার পর গিল বলেন। “আমি যেভাবে খেলেছি তা নিয়ে আমি খুব খুশি।” অধিনায়ক রোহিত শর্মা তাঁর উদ্বোধনী পার্টনারের প্রশংসা করে বলেন, “আমরা জানি গিলের কী নৈপুণ্য আছে, এখানে কারোই অবাক হওয়ার কিছু নেই। তাকে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে দেখে ভাল লেগেছে।” ভারত এই ৫০-ওভার ম্যাচের টুর্নামেন্ট জয়ের জন্য একটি সম্ভাব্য দল। পাকিস্তান স্বাগতিক দেশ হলেও, ভারত তাদের সব ম্যাচ দুবাই-এ খেলবে। তারা রাজনৈতিক টানা-পোড়নের কারণে পাকিস্তান যেতে অস্বীকার করে। ভারতের পেস আক্রমণের অগ্রভাগ মোহাম্মাদ স্বামী ৫৩ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে বিজয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন। টসের জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ এক পর্যায়ে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারায়। পরে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে সকল উইকেটের বিনিময়ে ২২৮ রান তুলতে সক্ষম হয়। তৌহিদ হৃদয়, যিনি ১০০ রান তুলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকান, এবং জাকের আলী (৬৮) ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৫৪ রান যোগ করেন। তারা ভারতের কিছু ঢিলে-ঢালা ফিল্ডিং-এর সুযোগ নিয়ে দলের মোট রান সংখ্যা এগিয়ে নিয়ে যান। জবাবে, ভারত শক্তভাবে তাদের ইনিংস শুরু করে, এবং রোহিত আর গিল নিয়মিত ভাবে বল বাউন্ডারিতে পাঠাতে শুরু করেন। এই সময় রোহিত সীমিত ওভার ক্রিকেটে তাঁর ব্যক্তিগত রান সংগ্রহ ১১,০০০ ছাড়িয়ে যান। তিনি বিশ্বের ১০ম এবং ভারতের চতুর্থ ব্যাটার যিনি এই মাইলফলক অতিক্রম করলেন। ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদের হাতে ভারতের ক্যাপ্টেনের উইকেটের পতন হওয়ার আগে তিনি ৪১ রান সংগ্রহ করেন। এর পরে ভিরাট কোহলি মাঠে আসেন এবং প্রায় জনশূন্য স্টেডিয়ামে দর্শকরা হর্ষ ধ্বনি করে তাকে স্বাগত জানায়। প্রথম রান নিতে কোহলিকে ১০টি বল খেলতে হয় এবং তিনি ২২ রান তুলে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের বল ভুল টাইমিং করে কাট করলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ধরা পড়েন। ভারত আরও দুইটি উইকেট হারায় যখন রিশাদ আর মুস্তাফিজুর রহমান আক্সার প্যাটেল আর শ্রেয়াস আইয়ার-এর উইকেট দখল করেন। এই পর্যায়ে ১৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে পড়ে। কিন্তু ভাইস ক্যাপ্টেন গিল মাথা ঠাণ্ডা রাখেন এবং কেএল রাহুলের সাথে অপরাজিত ৮৭ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে জয়ের লক্ষে পৌঁছে দেন। গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩ সীমিত ওভার ম্যাচের সিরিজে গিল তার ২৫৯ রানের জন্য ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হন। রাহুল, যিনি ৪১ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন, তার ইনিংসের শুরুর দিকে ভাগ্যের সহায়তা পান যখন তার তোলা একটি ক্যাচ জাকের ড্রপ করেন। এর পর ভারত আর কোন সুযোগ দেয়নি এবং গিল সীমিত ওভার ক্রিকেটে তার ৮ম সেঞ্চুরি সম্পন্ন করেন। “পাওয়ার প্লে’র সময় পাঁচটি উইকেট হারানোর কারণে আমরা খেলায় হেরেছি,” বাংলাদেশে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন। “হৃদয় আর যাকের দারুণ ব্যাট করেছে, কিন্তু তারপরও ফিল্ডিং-এ আমাদের ত্রুটি ছিল। ক্যাচ ফেলে দেয়া আর দুই’একটা রান-আউট মিস করা। এগুলোর জন্য ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো।” শামি ১০৪টি সীমিত ওভার ক্রিকেট ম্যাচে তার ষষ্ঠ ৫-উইকেট ইনিংস দিয়ে ছিলেন বোলারদের তারকা। ভারতের পেস তারকা জাস্প্রিত বুম্রাহ পিঠে ইনজুরির কারণে খেলতে না পাড়ায়, শামিকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হয়েছে। শামি ইনজুরির কারণে ১৪ মাস পর ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেন। তিনি এখন আইসিসি সীমিত ওভার টুর্নামেন্টে ৬০টি উইকেট দখল করে প্রাক্তন পেসার জাহির খানকে ছাড়িয়ে গেলেন। শামি প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন, এবং বাঁ-হাতি ব্যাটার সৌম্য সরকারের উইকেট তুলে নেন। সরকার পাঁচ বল খেলে কোন রান না করেই উইকেট-কিপারের হাতে ধরা পড়েন। স্পিনার আক্সার প্যাটেল পর পর দুই বলে তানজিদ হাসান (২৫) এবং মুশফিকুর রহিমকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান। পরের বলেই ষষ্ঠ উইকেটের পতন হতে পারতো যদি রোহিত প্রথম স্লিপে ক্যাচ ড্রপ না করতেন। এর ফলে আক্সার প্যাটেল হ্যাট-ট্রিক থেকে বঞ্চিত হলেন আর জাকের শূন্য করার গ্লানি থেকে রেহাই পেলেন। জাকের ব্যক্তিগত ২৪ রানের মাথায় আবার বেঁচে যান, যখন উইকেট-কিপার রাহুল তাকে স্টাম্প করার সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, তৌহিদ হৃদয়-এর তুলে দেয়া ক্যাচ হার্দিক পান্ডিয়া মিড-অফে ড্রপ করেন যখন হৃদয়ের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ২৩। তারা দুজন মিলে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শামি জাকেরের উইকেট ফেলে দেন কিন্তু হৃদয় লড়াই চালিয়ে যান এবং তার ১১৮-বলের ইনিংসে ছয়টি চার এবং দুইটি ছয় হাঁকান। ভারতের পরবর্তী ম্যাচ হবে রবিবার, কট্টর প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।
সম্পূর্ণ পড়ুন