উভয় দেশের নেতারা বলছেন ভারত ও মরিশাস তাদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উন্নত করলো। বিশ্লেষকরা বলছেন এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে ওই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবিলায় ভারত মহাসাগরে নতুন দিল্লির প্রভাব বৃদ্ধি।
মরিশাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুই দিন ব্যাপী সফরের সময়ে এই উন্নততর সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণাটি আসলো। মরিশাস হচ্ছে ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে একটি দ্বীপ-রাষ্ট্র।
বুধবার মরিশাসের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মোদী বলেন যে দেশ দু’টি তাদের সম্পর্ক বাড়িয়ে “বর্ধিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব” পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগুলামের সঙ্গে আলোচনার পর উভয় নেতা “মুক্ত, নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং খোলা ভারত মহাসাগরের” প্রতি তাঁদের প্রতিশ্রুতি পুনঃনিশ্চিত করেন।
মরিশাস মোদীকে সে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করে এবং এই দুই প্রধানমন্ত্রী নৌ-চলাচলের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আটটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
মোদী ঘোষণা করেন যে বিভিন্ন সমাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন দিল্লি ১ কোটি ১০ লক্ষ ডলার বিনিয়োগ করবে এবং ভারত মরিশাসে একটি নতুন সংসদ নির্মাণে সহযোগিতা করবে যেটিকে “গণতন্ত্রের মায়ের পক্ষ থেকে” একটি উপহার বলে অভিহত করা হচ্ছে।
চীনের সঙ্গে মরিশাসের বানিজ্য বাড়ছে
ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরেই মরিশাসের সম্পর্ক ভাল, যেখানে জনসংখ্যার ৭০% ই ভারতীয় বংশোদ্ভুত তবে বিশ্লেষকরা বলছেন মোদীর এই সফরে এটিও স্বীকার্য যে ভারতের প্রয়োজন এই দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরো বৃদ্ধি করা, যে দেশটি ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল ও আফ্রিকায় যাবার পথ এবং যেখানে বেইজিং ‘এর উপস্থিতি বেড়ে গেছে।
নতুন দিল্লিতে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশানের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্শ পান্তের মতে,“দ্বীপটিতে চীনের উপস্থিতি বেশ লক্ষ্য করার মতো এবং দেশটি এখন মরিশাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পক্ষ। সুতরাং ভারসাম্য রক্ষার জন্য মরিশাসের সঙ্গে অবিরত সম্পৃক্ততা রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নৌ-চলাচলের ব্যাপারে তাদের সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা প্রদান ভারতের জন্য জরুরি যাতে করে এটা দেখানো যায় যে এ ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সহযোগিতা করতে পারে।
২০১৯ সালে চীন মরিশাসের সঙ্গে একটি মুক্তবানিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে যা ২০২১ সাল থেকে কার্যকর হয়। মরিশাসের ব্যাপারে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দু দেশের সম্পর্কের রূপরেখায় বলা হয়েছে যে এই দু’টি দেশে কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। ওই ওয়েবসাইট অনুযায়ী দু দেশের দ্বিপাক্ষিক বানিজ্য ১১০ কোটি ডলারে ছুঁয়েছে যা আগের বছরের তূলনায় ১০.১% বেশি।
ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায়, ভারত ও চীন ভারত মহাসাগরের দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য তাদের প্রচেষ্টা বাড়াচ্ছে।
মরিশাসের সঙ্গে ভারতের নৌ সহযোগিতার উপর জোর দিয়ে, ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি দল সেখানকার জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে এবং ভারতের একটি যুদ্ধজাহাজ – ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী দ্য আইএনএস ইম্ফাল- রাজধানী পোর্ট লুইসে গেছে।
গত বছর ভারত মরিশাসকে দুটি ক্ষুদ্র দ্বীপে একটি বিমান ক্ষেত্র ও একটি জেটি নির্মাণে সাহায্য করেছিল। যদিও মরিশাস বলেছে যে এই স্থাপনাগুলি সামরিক ব্যবহারের জন্য নয় তবে বিশ্লেষকরা বলছেন এগুলোর ফলে ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে জাহাজ চলাচলের উপর নজরদারি করার একটা সুবিধা পাচ্ছে ভারত।