শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে দুই পরিবারের সম্মতিতে এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলিসাকান্দি গ্রামের বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্রের (২৮) সঙ্গে প্রতিবেশী মনোতোষ বাড়ৈর মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ১০ বছর আগে। চার বছর আগে তারা গোপনে আইনিভাবে বিয়ে (কোর্ট ম্যারেজ) করেন। বিয়ের পর স্ত্রীর পড়াশোনার জন্য বিশ্বজিৎ কয়েক লাখ টাকা খরচ করেন বলে দাবি করেন।
তবে বিপত্তি ঘটে সম্প্রতি অনুশীলা একটি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর। অভিযোগ ওঠে, চাকরি পাওয়ার পর বিশ্বজিতের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন অনুশীলা। কোনো উপায় না দেখে নিজের দাম্পত্য অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে অনুশীলার বাড়ির সামনে অনশনে বসেন বিশ্বজিৎ।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসে। বিবাদ নিরসনে এগিয়ে আসেন স্থানীয় মাতুব্বররা।
আরও পড়ুন: বিয়ের স্বীকৃতি পেতে প্রেমিকার বাড়িতে যুবকের অনশন!
স্থানীয় মাতুব্বর মিহির হালদার বলেন, দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমরা তাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়েছি। শেষ পর্যন্ত চারহাত এক করে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। নবদম্পতি যেন সুখে থাকে, সবাই সেই প্রার্থনা করবেন।
ঘটনাটি নিয়ে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আমাদের নজরে আসার পর আমরা দুই পরিবারকে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের পরামর্শ দিই। অবশেষে ভালোবাসার জয় হয়েছে জেনে ভালো লাগছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশ্বজিৎ ও অনুশীলা উভয়েই আনন্দ প্রকাশ করেন। পরিবারের সদস্যরাও বিবাদ ভুলে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেছেন। অনশন ভেঙে স্ত্রীর হাত ধরে বিশ্বজিতের ঘরে ফেরার দৃশ্যটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·