সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঠিকাদার আওলাদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সব নিয়মনীতি মেনে আমি ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। সেই সূত্রে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হিসেবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্মাণকাজ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধ করে দেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত, কর্মী আজমাইন সাকিবসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জন রয়েছেন। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি রেজা শরীফ।’
আওলাদ হোসেন আরও বলেন, ‘আমি যে পাথর ও বালি ব্যবহার করছি, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে অনুমোদন দিয়েছে। এরপরও ছাত্রদলের এসব নেতাকর্মী রাস্তা নির্মাণকাজে ভাগ দাবি করেন। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জানিয়েছি এবং বরিশাল বন্দর থানায় অভিযোগও করেছি।’
তিনি জানান, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও প্রক্টরকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলেও ছাত্রদল নামধারী এসব তরুণদের চাপে সরকারি সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: ববিতে ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি তোলার অভিযোগ, বিক্ষোভ
ঠিকাদার আওলাদ হোসেন জানান, রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে পরবর্তী করণীয় জানতে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। উপাচার্য তাকে কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। পরে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপাচার্যের কার্যালয় থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের কাছে নির্মাণাধীন সড়কে পৌঁছালে ছাত্রদল কর্মী আজমাইন সাকিব তার সহযোগীদের নিয়ে লাঠি ও বাঁশ নিয়ে তাকে আক্রমণের চেষ্টা করেন।
তিনি প্রাণভয়ে উপাচার্যের পাশের একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে বরিশাল বন্দর থানায় দায়ের করা অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে সহায়তা করেন।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজা শরীফ বলেন, ‘নিম্নমানের কাজ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা নির্মাণকাজে বাধা দেয়। ঠিকাদার আওলাদ হোসেনের কাছে কেউ কোনো চাঁদা চায়নি কিংবা হুমকি-ধামকির কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এ ব্যাপারে বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
]]>
২ দিন আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·